চট্টগ্রামে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলেও দেড় বছরে জেলার ১৫ উপজেলায় প্রায় ১২৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার বেশির ভাগই পরিকল্পিত বা টার্গেট কিলিং হিসেবে চিহ্নিত।
সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রাউজান উপজেলায়। গত ২১ মাসে সেখানে ২৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার বড় অংশ রাজনৈতিক বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। সর্বশেষ রোববার রাতে রাউজানে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী নাসির উদ্দিনকে। কদলপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়ির কাছে দোকান থেকে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে একই এলাকায় কাউসার জামান বাবলু নামের আরেক যুবদল কর্মী খুন হন। পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডে পুরো রাউজানজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গাছ, বালু ও মাটির ব্যবসা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা একে অপরের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এসব গ্রুপ পাহাড়ে গিয়ে আত্মগোপন করে।
একই রাতে সাতকানিয়ায় শাহাদাত হোসেন নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে নিজের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোরে তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক নাকি ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশ বলছে, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখল-বেদখল বড় কারণ। একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্র বিদেশে অবস্থান করেও অনুসারীদের দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত দুই বছরে চট্টগ্রামে একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রকাশ্যে গুলি, ঘর থেকে তুলে নিয়ে হত্যা কিংবা নির্জন স্থানে লাশ ফেলে যাওয়ার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
জেলা পুলিশ জানায়, ভৌগোলিক কারণে বিশেষ করে রাউজান এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সন্ত্রাস দমনে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নতুন করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবু স্থানীয়দের আশঙ্কা, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে টার্গেট কিলিংয়ের এই ধারাবাহিকতা আরও বাড়তে পারে।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলেও দেড় বছরে জেলার ১৫ উপজেলায় প্রায় ১২৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার বেশির ভাগই পরিকল্পিত বা টার্গেট কিলিং হিসেবে চিহ্নিত।
সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রাউজান উপজেলায়। গত ২১ মাসে সেখানে ২৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার বড় অংশ রাজনৈতিক বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। সর্বশেষ রোববার রাতে রাউজানে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী নাসির উদ্দিনকে। কদলপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়ির কাছে দোকান থেকে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে একই এলাকায় কাউসার জামান বাবলু নামের আরেক যুবদল কর্মী খুন হন। পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডে পুরো রাউজানজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গাছ, বালু ও মাটির ব্যবসা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা একে অপরের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এসব গ্রুপ পাহাড়ে গিয়ে আত্মগোপন করে।
একই রাতে সাতকানিয়ায় শাহাদাত হোসেন নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে নিজের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোরে তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক নাকি ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশ বলছে, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখল-বেদখল বড় কারণ। একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্র বিদেশে অবস্থান করেও অনুসারীদের দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত দুই বছরে চট্টগ্রামে একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রকাশ্যে গুলি, ঘর থেকে তুলে নিয়ে হত্যা কিংবা নির্জন স্থানে লাশ ফেলে যাওয়ার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
জেলা পুলিশ জানায়, ভৌগোলিক কারণে বিশেষ করে রাউজান এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সন্ত্রাস দমনে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নতুন করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবু স্থানীয়দের আশঙ্কা, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে টার্গেট কিলিংয়ের এই ধারাবাহিকতা আরও বাড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন