ঢাকা    রোববার, ২৪ মে ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

ভারত ঘুরে এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর, ভারসাম্যনীতির বার্তা


প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ভারত ঘুরে এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর, ভারসাম্যনীতির বার্তা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে চীন যাচ্ছেন। এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন গতি সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কূটনীতিতে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানও আবার সামনে আসছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে তিন দিনের সফরে ঢাকা ছাড়বেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরে তার সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তারা কুনমিং হয়ে বেইজিং পৌঁছাবেন এবং ৭ মে দেশে ফিরবেন।

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ৬ মে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। একই দিনে চীনের উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশের বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

এই সফরের মূল লক্ষ্য ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও বাস্তবমুখী সহযোগিতায় উন্নীত করা। আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে। প্রায় আট হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে। নদী শাসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনায় এটি বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ছাড়া পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে চীনা শিল্প-কারখানা স্থানান্তরের বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে বাংলাদেশ এখনই এতে যোগ দিচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একইভাবে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক উদ্যোগেও সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে ঢাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগে ভূরাজনৈতিক প্রভাব থাকায় সুবিধা ও ঝুঁকি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে চায় বাংলাদেশ।

এই সফরকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত ৭ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই বড় শক্তির রাজধানীতে সফরকে অনেকেই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ সবসময় বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে প্রতিযোগিতামূলক নয়, বরং সহযোগিতামূলক হিসেবে দেখতে চায়। উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া এই আমন্ত্রণ দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বেড়েছে। পানিসম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং জনসম্পর্ক বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে দুই পক্ষ। বিশেষ করে পানি ব্যবস্থাপনায় ৫০ বছরের একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


ভারত ঘুরে এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর, ভারসাম্যনীতির বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে চীন যাচ্ছেন। এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন গতি সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কূটনীতিতে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানও আবার সামনে আসছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে তিন দিনের সফরে ঢাকা ছাড়বেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরে তার সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তারা কুনমিং হয়ে বেইজিং পৌঁছাবেন এবং ৭ মে দেশে ফিরবেন।

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ৬ মে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। একই দিনে চীনের উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশের বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

এই সফরের মূল লক্ষ্য ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও বাস্তবমুখী সহযোগিতায় উন্নীত করা। আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে। প্রায় আট হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে। নদী শাসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনায় এটি বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ছাড়া পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে চীনা শিল্প-কারখানা স্থানান্তরের বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে বাংলাদেশ এখনই এতে যোগ দিচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একইভাবে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক উদ্যোগেও সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে ঢাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগে ভূরাজনৈতিক প্রভাব থাকায় সুবিধা ও ঝুঁকি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে চায় বাংলাদেশ।

এই সফরকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত ৭ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই বড় শক্তির রাজধানীতে সফরকে অনেকেই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ সবসময় বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে প্রতিযোগিতামূলক নয়, বরং সহযোগিতামূলক হিসেবে দেখতে চায়। উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া এই আমন্ত্রণ দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বেড়েছে। পানিসম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং জনসম্পর্ক বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে দুই পক্ষ। বিশেষ করে পানি ব্যবস্থাপনায় ৫০ বছরের একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত