ঢাকা    রোববার, ২৪ মে ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ে বাংলাদেশে কি প্রভাব পড়বে ?


প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ে বাংলাদেশে কি প্রভাব পড়বে ?
সংগৃহীত ছবি

দৃষ্টি প্রতিবেদক :

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের ওপর কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—তা নিয়ে চলছে আলোচনা। বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু  নির্বাচনী প্রচারণার ভাষা আর রাষ্ট্রীয় নীতির বাস্তবতা এক নয়। তাই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনই নেই। 

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, যদিও বাংলাদেশে বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। আর বিরোধী দল হিসাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোট। পুরোপুরি সত্য না হলেও কথিত আছে, জামায়াত এবং বিএনপি দুটি দলই বরাবর ভারত বিদ্বেষী। তবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাহীন হওয়া পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভারত বিদ্বেষী কোন মন্তব্য বা কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়নি। 

আবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমুল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর এবং নরেন্দ্রমোদির বিজেপি বিজয়ের পর বাংলাদেশ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দু’জনই ব্যালেন্স মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

অপরদিকে, শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয়ের পর এবং নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শেখ হাসিনা এবং ড. ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীণ সরকার এবং বর্তমান সরকার নিয়ে কিছু বে-ফাঁস মন্তব্য করতে দেখা গেছে। অপরদিকে, পশ্চিমবঙ্গের কিছু কিছু এলাকায় মুসলমানদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘরে হামলা ও অগ্নসংযোগের পাশাপাশি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। যা বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়ার বদৌলতে ছবি এবং ভিডিও দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, “নির্বাচনের আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকারকে মধ্যপন্থি হতে হয়। উগ্রতার জায়গা খুব বেশি থাকেনা। তবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব সীমান্ত অঞ্চলেও পড়তেও পারে।

এই নির্বাচনে বাংলাদেশ-বিরোধী ও মুসলিম-বিরোধী প্রচারণা চোখে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। যদিও তারা মনে করেন, সরকার পরিচালনায় এ ধরনের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আশা করছেন কেউ কেউ। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক নির্ধারিত হয় কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির মাধ্যমে। তাই রাজ্য সরকার পরিবর্তন হলেও দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। 

“সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রভাবের আশঙ্কা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক আলোচনার দিকেই এখন নজর সবার।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ে বাংলাদেশে কি প্রভাব পড়বে ?

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

দৃষ্টি প্রতিবেদক :

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের ওপর কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—তা নিয়ে চলছে আলোচনা। বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু  নির্বাচনী প্রচারণার ভাষা আর রাষ্ট্রীয় নীতির বাস্তবতা এক নয়। তাই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনই নেই। 

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, যদিও বাংলাদেশে বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। আর বিরোধী দল হিসাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোট। পুরোপুরি সত্য না হলেও কথিত আছে, জামায়াত এবং বিএনপি দুটি দলই বরাবর ভারত বিদ্বেষী। তবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাহীন হওয়া পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভারত বিদ্বেষী কোন মন্তব্য বা কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়নি। 

আবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমুল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর এবং নরেন্দ্রমোদির বিজেপি বিজয়ের পর বাংলাদেশ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দু’জনই ব্যালেন্স মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

অপরদিকে, শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয়ের পর এবং নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শেখ হাসিনা এবং ড. ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীণ সরকার এবং বর্তমান সরকার নিয়ে কিছু বে-ফাঁস মন্তব্য করতে দেখা গেছে। অপরদিকে, পশ্চিমবঙ্গের কিছু কিছু এলাকায় মুসলমানদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘরে হামলা ও অগ্নসংযোগের পাশাপাশি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। যা বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়ার বদৌলতে ছবি এবং ভিডিও দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, “নির্বাচনের আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকারকে মধ্যপন্থি হতে হয়। উগ্রতার জায়গা খুব বেশি থাকেনা। তবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব সীমান্ত অঞ্চলেও পড়তেও পারে।

এই নির্বাচনে বাংলাদেশ-বিরোধী ও মুসলিম-বিরোধী প্রচারণা চোখে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। যদিও তারা মনে করেন, সরকার পরিচালনায় এ ধরনের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আশা করছেন কেউ কেউ। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক নির্ধারিত হয় কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির মাধ্যমে। তাই রাজ্য সরকার পরিবর্তন হলেও দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। 

“সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রভাবের আশঙ্কা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক আলোচনার দিকেই এখন নজর সবার।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত