ঢাকা    রোববার, ২৪ মে ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ; ব্রীজ সমাচার


প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ; ব্রীজ সমাচার
সাম্প্রতিক যানজটের ছবি সংগৃহীত

দৃষ্টি প্রতিবেদক :

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক’ দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান স্থলপথ। নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এবং সোনারগাঁও উপজেলার মধ্যবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ১৯৭৮ সালে নির্মিত লাঙ্গলবন্দ সেতুসহ অন্যান্য সেতুগুলো মেরুদণ্ডেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কোন সেতু নির্মিত হলে মোটামুটি ৫০ থেকে শতবছর বা আরও বেশি সময় দেওয়া হয় তার স্থায়ীত্বে। লাঙ্গলবন্দ সেতুটি নির্মিত হওয়ার পর চলতি বছরের গত ১ মার্চ পর্যন্ত তিন বা মেরামত বা সংস্কার করা হয়েছে। মাত্র ৪৮ বছরে তিন বার মেরামতের পরও এই সেতুটি বর্তমানে ঢাকামুখি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এক আতঙ্ক ও বিড়ম্বনার নামে পরিণত হয়েছে।

সড়ক ও জনপদ এবং সেতু মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০১৯ সালে ঈদ-উল-ফিতরের সময় সেতুটির জরুরি মেরামত কাজ করা হয়েছিল। পরে মেরামতের মাত্র দুই বছরের মধ্যে আবারও সেতুটির বেহাল দশা হলে ২০২১ সালের জুলাই মাসে আবারও কিছু কাজ করে ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। সবশেষ ২০২৬ সালের ১ মার্চ সেতুটির একটি অংশ ভেঙে গেলে ওই ভাঙা অংশের নতুন করে সংস্কার কাজ করা হয়। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে যান চলাচল অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যানবাহন খুবই ধীরগতিতে চলাচল করে। ফলে এ পথে যাতায়াতকারী প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার যানবাহনে থাকা যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা পরেন মহাবিপাকে। যানজটে পরে বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। 

                                সেতুর মেরামত কাজ করার সময় (ফাইল ছবি)

বিশেষ করে দাউদকান্দি থেকে লাঙ্গলবন্ধ ব্রীজের সোনারগাঁও অংশ পর্যন্ত হাজার হাজার যানবাহন দিয়ে লাখ লাখ মানুষের প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে রাজধানীতে প্রবেশ করতে হয়। মহাসড়কটিতে বিকল্প কোন সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থেকে কোন কোন সময় বিকল্প রুট হিসেবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া পথের ডানে মদনপুর দিয়ে বন্দও রেল লাইন থেকে বামে সোনারগাঁও উপজেলার ঐতিহাসিক কাইকারটেক ব্রীজ হয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু, বিকল্প পথ হিসেবে দেখানো রুটটি সরু হওয়ায় এবং সড়কগুলো ভারি যানবাহন চলার উপযোগি করে তৈরি করায় ওই এলাকার মানুষ এবং যানবাহনের শ্রমিকদের পরতে হয় আরেক বিড়ম্বনায়।

যানবাহন শ্রমিকরা জানান, ওই রাস্তা ঘরে যাওয়ার সময় রাস্তা পাশ না থাকায় প্রচুর যানজটে পরতে হয়। ফলে ওই সকল স্থানীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং ছোট যানবাহন শ্রমিকদের সাথে প্রায় সময় ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া, মহাসড়কের পাশে থাকা এলাকার যাত্রী এবং সড়কের পাশের বিভিন্ন লিংক রোড দিয়ে দুরদুরান্ত থেকে দাউদকান্দি থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত নানা এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্য সড়ক দিয়ে ঘুরে যাতায়াত করতে অপারগতা প্রকাশ করে। তার ওপর দুরত্ব বেশি হওয়ায় যানবাহনের খরচও বেড়ে যায় অনেক। 

পরিবহণ শ্রমিকদের অভিযোগ, সড়ক ও জনপদের লোকজন সেতুটির কাজ আন্তরকতার সাথে না করে কিছু দিন পর পর এই সেতু সংস্কারের কথা বলে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটা উপায় বের করেছে। দাবি করে, তারা যদি মেরামতের কাজটি ঠিক-ঠাক মতো করতো তাহলে কিছু দিন পর পর সেতুটি নিয়ে এ পরিস্থিতিতে পরতে হতো না। 

মঙ্গলবার (৫ মে) রাত থেকে বুধবার (৬ মে) দুপুরের পর পর্যন্ত এ রুটের উভয় দিকে প্রায় ১২-১৩ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর নিয়ে জানাগেছে, লাঙ্গলবন্দ ব্রীজ থেকে মেঘনা ব্রীজ এবং মদনপুর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে যানজট। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছে বাস, ট্রাক, লরি, মাইক্রোবাস, এম্বুলেন্স, ওষুধবহনকারী গাড়ি ও প্রাইভেটকারসহ হাজার হাজার যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। 


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ; ব্রীজ সমাচার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

দৃষ্টি প্রতিবেদক :

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক’ দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান স্থলপথ। নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এবং সোনারগাঁও উপজেলার মধ্যবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ১৯৭৮ সালে নির্মিত লাঙ্গলবন্দ সেতুসহ অন্যান্য সেতুগুলো মেরুদণ্ডেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কোন সেতু নির্মিত হলে মোটামুটি ৫০ থেকে শতবছর বা আরও বেশি সময় দেওয়া হয় তার স্থায়ীত্বে। লাঙ্গলবন্দ সেতুটি নির্মিত হওয়ার পর চলতি বছরের গত ১ মার্চ পর্যন্ত তিন বা মেরামত বা সংস্কার করা হয়েছে। মাত্র ৪৮ বছরে তিন বার মেরামতের পরও এই সেতুটি বর্তমানে ঢাকামুখি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এক আতঙ্ক ও বিড়ম্বনার নামে পরিণত হয়েছে।

সড়ক ও জনপদ এবং সেতু মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০১৯ সালে ঈদ-উল-ফিতরের সময় সেতুটির জরুরি মেরামত কাজ করা হয়েছিল। পরে মেরামতের মাত্র দুই বছরের মধ্যে আবারও সেতুটির বেহাল দশা হলে ২০২১ সালের জুলাই মাসে আবারও কিছু কাজ করে ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। সবশেষ ২০২৬ সালের ১ মার্চ সেতুটির একটি অংশ ভেঙে গেলে ওই ভাঙা অংশের নতুন করে সংস্কার কাজ করা হয়। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে যান চলাচল অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যানবাহন খুবই ধীরগতিতে চলাচল করে। ফলে এ পথে যাতায়াতকারী প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার যানবাহনে থাকা যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা পরেন মহাবিপাকে। যানজটে পরে বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। 

                                সেতুর মেরামত কাজ করার সময় (ফাইল ছবি)

বিশেষ করে দাউদকান্দি থেকে লাঙ্গলবন্ধ ব্রীজের সোনারগাঁও অংশ পর্যন্ত হাজার হাজার যানবাহন দিয়ে লাখ লাখ মানুষের প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে রাজধানীতে প্রবেশ করতে হয়। মহাসড়কটিতে বিকল্প কোন সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থেকে কোন কোন সময় বিকল্প রুট হিসেবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া পথের ডানে মদনপুর দিয়ে বন্দও রেল লাইন থেকে বামে সোনারগাঁও উপজেলার ঐতিহাসিক কাইকারটেক ব্রীজ হয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু, বিকল্প পথ হিসেবে দেখানো রুটটি সরু হওয়ায় এবং সড়কগুলো ভারি যানবাহন চলার উপযোগি করে তৈরি করায় ওই এলাকার মানুষ এবং যানবাহনের শ্রমিকদের পরতে হয় আরেক বিড়ম্বনায়।

যানবাহন শ্রমিকরা জানান, ওই রাস্তা ঘরে যাওয়ার সময় রাস্তা পাশ না থাকায় প্রচুর যানজটে পরতে হয়। ফলে ওই সকল স্থানীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং ছোট যানবাহন শ্রমিকদের সাথে প্রায় সময় ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া, মহাসড়কের পাশে থাকা এলাকার যাত্রী এবং সড়কের পাশের বিভিন্ন লিংক রোড দিয়ে দুরদুরান্ত থেকে দাউদকান্দি থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত নানা এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্য সড়ক দিয়ে ঘুরে যাতায়াত করতে অপারগতা প্রকাশ করে। তার ওপর দুরত্ব বেশি হওয়ায় যানবাহনের খরচও বেড়ে যায় অনেক। 

পরিবহণ শ্রমিকদের অভিযোগ, সড়ক ও জনপদের লোকজন সেতুটির কাজ আন্তরকতার সাথে না করে কিছু দিন পর পর এই সেতু সংস্কারের কথা বলে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটা উপায় বের করেছে। দাবি করে, তারা যদি মেরামতের কাজটি ঠিক-ঠাক মতো করতো তাহলে কিছু দিন পর পর সেতুটি নিয়ে এ পরিস্থিতিতে পরতে হতো না। 

মঙ্গলবার (৫ মে) রাত থেকে বুধবার (৬ মে) দুপুরের পর পর্যন্ত এ রুটের উভয় দিকে প্রায় ১২-১৩ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর নিয়ে জানাগেছে, লাঙ্গলবন্দ ব্রীজ থেকে মেঘনা ব্রীজ এবং মদনপুর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে যানজট। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছে বাস, ট্রাক, লরি, মাইক্রোবাস, এম্বুলেন্স, ওষুধবহনকারী গাড়ি ও প্রাইভেটকারসহ হাজার হাজার যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। 



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত