প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে এআই-এর ভয়ঙ্কর খেলায় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারা
||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনীতির মাঠে উত্তাপের সঙ্গে ডিজিটাল অপপ্রচারের ভয়াবহ রূপও বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও, ডিপফেক, ভয়েস ক্লোনিং ও বিকৃত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব অপপ্রচারের বড় অংশের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির শীর্ষ নেতাদের।বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ মহল পরিকল্পিতভাবে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ও বিকৃত কনটেন্ট ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দলের দাবি, ডিজিটাল অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সহজ নয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটের ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সত্যের আদলে মিথ্যা’ কনটেন্টের বিস্তার বেড়েছে। শীর্ষ নেতাদের নাম ও মুখাবয়ব ব্যবহার করে ডিপফেক ভিডিও, ভয়েস ক্লোনিং এবং ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে একটি এআই জেনারেটেড ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, তিনি নতুন একটি ফেসবুক পেজ খুলে সবাইকে ফলো করার আহ্বান জানাচ্ছেন। পরে যাচাই করা হলে দেখা গেছে, এটি তারেক রহমানের পুরনো ভিডিওর দৃশ্য ব্যবহার করে তৈরি করা সম্পূর্ণ ভুয়া কনটেন্ট। এর আগে ‘ডেইলি ডাকসু’ নামের একটি ফেসবুক পেজ তারেক রহমানের নামে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে ক্ষমতায় এলে মেট্রোরেল বন্ধ করে ডিজিটাল লোকাল বাস চালু করা হবে, যা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমাকে নিয়ে তৈরি আরেকটি এআই ভিডিওতে বিভ্রান্তিকর সংলাপ যুক্ত করে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওটির শেষাংশে রাজনৈতিক প্ররোচনামূলক আবহও যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কর্মকর্তার বৈঠক সংক্রান্ত চারটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা রিউমর স্ক্যানার ও ডিসমিসল্যাব নিশ্চিত করেছে সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এআই ব্যবহার করে তৈরি।ফেসবুকে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ ও ফটোকার্ডে তারেক রহমানকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কিছু ভিডিওতে লেখা, জনগণ পাঁচ বছর বিএনপির পা ধরবে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, এটি তারেক রহমানের দীর্ঘ বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ।তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সাত দিনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে অন্তত ৯৩টি ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি সরাসরি তারেক রহমানকে নিয়ে। জানুয়ারি মাসে তারেক রহমানকে ঘিরে ৬০টি নেতিবাচক অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। একই সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন নিয়ে মোট ২৩৮টি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে।বিএনপির তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দল মনে করে, মিথ্যার সঙ্গে সত্যের জয় অবধারিত। দলের নেতাারা বলছেন, এআই ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় এআইভিত্তিক অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণে না রাখা গেলে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে ভোটারদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ নষ্ট হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।এসএইচ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত