প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
পাম্পহীন দাকোপে হাহাকার: খোলা বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকটা
সৌরভ মন্ডল , দাকোপ, খুলনা ||
নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত খুলনার দাকোপ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলায় কোনো নিবন্ধিত পেট্রোল পাম্প না থাকায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা দীর্ঘদিন ধরে খোলা বাজারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু গত কয়েকসপ্তাহ ধরে খোলা বাজারেও পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো মোটরসাইকেল চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।উপজেলার সদর চালনা বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ছোট দোকানগুলোতে যেখানে আগে বোতলে করে পেট্রোল বিক্রি হতো, সেখানে এখন তেল নেই। অনেক দোকান দেখা যায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আবার কোনো কোনো দোকানে চড়া দামে সামান্য তেল পাওয়া গেলেও তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মোটরসাইকেল চালকরা জানান, জরুরি প্রয়োজনেও তারা গাড়ি বের করতে পারছেন না। অনেককে মাইলের পর মাইল বাইক ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে জ্বালানি সংকটে। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে জরুরি সেবাতেও। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। চালনা বাজার ডাকবাংলা মোটরসাইকেল সমিতির চালক ইদ্রিস হাওলাদার, মহসিন ফরাজিসহ কয়েকজন বলেন, দাকোপে কোনো পাম্প নেই, এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ। আগে মোংলা বা খুলনা থেকে ড্রামে করে তেল এনে খোলা বাজারে বিক্রি হতো। এখন খুলনার বিভিন্ন এলাকার পাম্প গুলাতে সিরিয়াল দিয়ে অনেক সময় সেখানেও তেল মিলছে না। আমাদের আয়-রোজগার সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে।অভিযোগ উঠেছে, জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মজুতদারি শুরু করেছে। তারা গোপনে চড়া দামে তেল বিক্রি করলেও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে ‘নেই’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় এই কৃত্রিম সংকট প্রকট হচ্ছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।উপলকূলীয় এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি দাকোপে অন্তত একটি সরকারি বা অনুমোদিত বেসরকারি পেট্রোল পাম্প স্থাপন করা হোক। বর্তমানে পাম্প না থাকায় কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করে এবং অনিরাপদভাবে খোলা বাজার থেকে তেল কিনতে হয় তাদের। দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী দাকোপবাসী। তারা চান দ্রুত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক এবং বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত