প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সাক্ষ্যগ্রহণেই আটকে আছে মামলার বিচারপ্রক্রিয়াা
||
সাভারের রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বহুল আলোচিত এই মানবিক বিপর্যয়ের বিচার এখনো শেষ না হওয়া বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ১ হাজার ১৩৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় দায় নির্ধারণ ও শাস্তি কার্যকর না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে নিহতদের পরিবার ও শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে। উচ্চ আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও মামলাটি এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়েই আটকে আছে।২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ভবন ধসের পর দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় বর্তমানে ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৪৫ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। অন্যদিকে একই ঘটনায় ইমারত নির্মাণ আইনের আরেক মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো শুরুই হয়নি। বিচারাধীন দুই মামলাই বছরের পর বছর ধরে ধীরগতিতে চলায় ক্ষোভ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।রাষ্ট্রপক্ষের একাংশ অভিযোগ করছে, অতীত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে মামলাটি অগ্রগতি পায়নি। পাশাপাশি রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ বলছে, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে একজন প্রধান আসামি সোহেল রানা ১৩ বছর ধরে কারাগারে থাকলেও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে সাক্ষী হাজির না হওয়া, শুনানি পিছিয়ে যাওয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতায় বিচার কার্যক্রম বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, রানা প্লাজার মতো ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শুধু বিচার নয়, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তারা দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত এবং একটি কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানাচ্ছে।দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিচার শেষ না হওয়া শুধু একটি মামলার অচলাবস্থা নয়, বরং শ্রমিক নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে। বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হলে এমন ট্র্যাজেডির দায় নির্ধারণ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত