প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
||
মোকাররম মামুন :‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ বর্তমানে দেশে তেল নিয়ে সরকারের বক্তব্য আর মাঠের তথ্যে যে পরিস্থিতি দৃশ্যমান, সে দৃষ্টিকোণ থেকে এরচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ আপাতত দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। অনেকেই প্রবাদটির অর্থ জানেন। প্রবাদটি মুলত কাগজে-কলমে বা তত্ত্বে অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে তার কোনো মিল বা কার্যকারিতা না থাকাকে বুঝায়। এটি মূলত কোনো কিছুর ভুয়া হিসাব, দুর্নীতি, অবাস্তব পরিকল্পনা বা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। অনেকের মতে সরকার এমন পন্থাই বেছে নিয়েছেন। আসলেই কি সরকার এ পন্থা নিয়েছেন প্রশ্ন আমাদেরও। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধের পরপরই বিশ্বে জ্বালানী সংকটের আশঙ্কা করেছিল জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা। তার প্রতিফলনও দেখছে বিশ্ব। নিজেদের সংকট, সমস্যা আর ব্যর্থতার কথা অবলিলায় বিভিন্ন মাধ্যমে জানিয়েছে বিশ্বের আমদানি নির্ভর বিশেষ করে জ্বালানী পণ্য আমদানী নির্ভর দেশগুলো। দুঃখজনক হলেও সত্যি, শুধু মাত্র বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যে দেশের সরকার এখন পর্যন্ত জ্বালানী সংকটের কথা স্বিকার করেনি। বরং বলা হচ্ছে, দেশে জ¦ালানীর কোন সংকট নেই। সংকট হওয়ার কোন কারণও নেই।সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে জ্বালানী নিয়ে করা প্রতিবেদনের শিরোনাম দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠার মতো উপক্রম হয়েছে। শিরোনাম ও সংবাদ পড়ে অনেককে ক্ষোভের সাথে সরকার এবং জ্বালানী সংশ্লিষ্টদের গালাগাল করে চৌদ্দো গোষ্টি উদ্ধার করতেও দেখা গেছে। অকটেন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে আক্রমনাত্মক কুটক্তি করার পরপরই কুটক্তি করা ব্যক্তিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবার ক্ষমা চাওয়ার ভাইরাল ঘটনাও দেখেছে বিশ্ববাসী। সাধারণভাবেই প্রশ্ন ওঠে, দেশে যদি জ্বালানী সংকট না-ই থাকে, তাহলে প্রথমে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন কেন হয়েছে। ধীরে ধীরে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতম হয়েছে। তারপর বিভিন্ন পাম্পে তেল নাই লেখা ঝুলিয়ে দেওয়া, দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা অপেক্ষায় থাকা, সিরিয়াল না মেনে তেল দেওয়া নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে গ্রহকের সাথে পাম্প শ্রমিকদের হাতাহতির ঘটনা, তেলের অভাবে ধীরে ধীরে পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেশনিং পদ্ধতি আবিস্কার, কার্ড সিস্টেম উদ্ভাবন, জ্বালানী ব্যবহারকারীদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় গিয়ে তেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পাওয়া, সরকারি বিভিন্ন পরিবহনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল প্রদান, জ্বালানী সাশ্রয়ে স্কুল বন্ধ করে অনলাইন-অফ লাইনে ক্লাশ করার পরিকল্পনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যার পর বন্ধের সিদ্ধান্তের মতো এতোসব আয়োজন কেন। বলা যায় তেল নিয়ে দেশে তেলেসমাতি কাণ্ড ঘটছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে বলছেন তেলের যথেষ্ট মজুদের কথা, বাস্তবে একের পর এক পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিএনপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর দাবি, জনগণের দাবিতেই তেলের দাম বৃদ্ধি। গণমাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে ‘উপছে পরছে সব ডিপু, তবু তেল নিয়ে হাহাকার’ এদিকে, দিনের পর রাত, রাতের পর দিন আসে কিন্তু চোখের সামনে পাম্পে যখন তেল আসেনা আর কাঙ্খিত তেলের জন্য অপেক্ষমানদের কিলোমিটার পার হওয়া দৃশ্য কি বলে ? দেশে কি তেলের সংকট না-কি উপচে পরছে তেল, না-কি ট্যাংকিতে জায়গা না থাকায় তেল নদীতে ভাসছে। না-কি আসলেই তেল আছে, সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার ব্যর্থ, নাকি সংশ্লিষ্টদের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব। কেনটা সঠিক ?জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে সরকারের আশ্বাস যতটা স্বস্তির, বাস্তবতা তার চেয়ে শতগুণ বেশি অস্বস্তির। কারণ যারা স্বস্তির এ কথাগুলো বলেন, তারা তাদের দেওয়া ট্যাক্স-ভ্যাটে কেনা বিদ্যুৎ আর এসি ব্যবহার করে, শীতল ঘরে নরম সোফায় বসে বলেন, যারা তপ্ত তাপে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে রোদে পুড়ে সরকারি কোষাগারে ট্যাক্স-ভ্যাট প্রদান করেন। সরকারের দাবি যদি সত্যি হয়, অর্থাৎ দেশে যদি জ্বালানীর ঘাটতি বা সমস্যা না থাকে, তাহলে সমস্যার কারণ চরম অব্যবস্থাপনা। আর যদি সাধারণ ভুক্তভোগীদের কথা সত্যি হয়, তাহলে মিথ্যা বলছে সরকার। প্রশ্ন হচ্ছে, ১৭ বছর পর যে দলটি সাধারণ মানুষকে এতো আশ্বাস দিয়ে সরকার গঠন করলো, তারা কেন মিথ্যা বলবে। তবে, দেশে জ্বালানী তেল নিয়ে যে তেলেসমাতি হচ্ছে তা থেকে দায় এড়ানোর সুযোগ কোন ভাবেই সরকারের নেই। যদিও সরকার শুধুই, আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে, প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন। সরকার ও জ¦ালানী সংশ্লিষ্টদের তথ্যে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট মজুতের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন। ২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত ছিল। ১৫ এপ্রিল ২০২৬ এর তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ডিজেল মজুত ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন। এছাড়া ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন এবং ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন পেট্রোল মজুত ছিল। সবশেষ ২২ এপ্রিল বুধবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনে দেশে তেল সংকটকে আর্টিফিসিয়াল সংকট আখ্যায়িত করে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ডিজেল মজুদ আছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭১ টন। অকটেনের মজুদের পরিমাণ ২৫ হাজার ৪শ ২৩ টন। পেট্রলের মজুদ ১৮ হাজার ৪৪০ টন। জেড ফুয়েলের মজুদ ৩৯ হাজার ৪৩৯ টন। মেরিন ফুয়েলের মজুদ ১ হাজার ২৬ টন। ফার্নেস অয়েলের মজুদ ৬২ হাজার ৫৩৩ টন।তিনি জানান, ২০২৫ সালে ডিজেল দেওয়া হতো ৩১৩ টন। বর্তমান সরকারের সময় দেওয়া হয়েছে ৪৬৭ টন। ১৫৪ টন বেশি যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ বেশি মজুদ করা হয়েছে। এই তথ্য পদ্মা, মেঘনা আর ডিপু থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। যা দেশে ২৫ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। তবে, পাম্পে যে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, সেইটাকে তিনি কোন ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দেশে যে সকল পাম্পগুলো রয়েছে সে পাম্পগুলোর বেশিরভাগই তেল না পাওয়ার কারণে বন্ধ হচ্ছে কেন। প্রথম থেকেই যদি একইভাবে পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ করা হতো সবাই চাহিদা মতো তেল পেতো তাহলেতো বেশি কেনার চিন্তা করতো না। আর এ হাহাকার পরিস্থিতিও তৈরি হতো না। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি’র ডিপোতে তেল রাখার জায়গা নেই। এমনকি তেলবোঝাই জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালেও রাখার জায়গার অভাবে খালাস করা যাচ্ছে না। তেলভর্তি জাহাজ ভাসছে সাগরে। অন্যদিকে বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলোও জানায়, তাদের ডিপোতেও তেল রাখার জায়গা নেই। তেল নেওয়ার জন্য তারা বিপিসির কাছে ধরণা দিচ্ছে। হ্যা- এটা বলার অপেক্ষা থাকেনা যে, আমাদের মধ্যে আস্থার চরম সংকট রয়েছে। যখন সাধারণ মানুষ দেখে পাম্পে তেল নেই, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই বেশি করে কিনে রাখতে চায়। যেহেতু দেশের পুরোনো এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদরাই দেশের নীতি-নির্ধারনির দায়িত্বে নিয়োজিত। দেশের মানুষের পালস তাদেরতো নখদর্পণে থাকার কথা। দেশে জ্বালানী সংকট না হলে বর্তমান পরিস্থিতি হওয়ার সুযোগ কেন দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের কি কোন উত্তর আছে তাদের কাছে ? হয়তো আছে, তাহলে সে উত্তর কি বর্তমান পরিস্তিতি স্বাভাবিক করতে পারবে ? এ প্রশ্ন থেকে যায়। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ সব সময়ই নির্যাতিত, অবহেলিত। একদিকে, সরকার বলছে দেশে জ্বালানী তেলের সংকট নেই অপরদিকে, সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয়ের কথা বলে তেলের দাম বাড়িয়েছে। এমন এক সময় তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমানো হয়েছে। এছাড়া, তেল বৃদ্ধির আগেই দেশের সকল পণ্যের দাম অঘোষিতভাবে বাড়ানো হয়েছে। যে দিকে সরকারকে কোন ভ্রক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। এদিকে, আবার সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ বলছেন, জনগণের দাবির কারণেই নাকি সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। মন্তব্যটি শুধু হাস্যকরই নয়, অনেকটা জনপ্রত্যাশা বিরোধী বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এখন দেখা যাক সরকার, কিছু গণমাধ্যমে করা প্রতিবেদনের সাথে বাস্তবতা কি।সরকার আর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন একই সুরে কথা বলছে। তাদের মতে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানী মজুদ রয়েছে। শুধু তাই নয়, জায়গার বা তেল রাখার পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় জাহাজ থেকে তেল খালাস করা যাচ্ছেনা। ফলে জাহাজের মধ্যেই বেশি খরচ দিয়ে ভাসমান অবস্থায় রাখতে হচ্ছে তেল।এদিকে, গত ১৪ এপ্রিল ক্রড অয়েল না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ তেল শোধানাগার বন্ধ হওয়ায় ১৬ ধরনের তেল উৎপাদনে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে দেশ। যার মধ্যে অন্যতম জ্বালানী ইউনিটের মধ্যে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনকারী ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বিটুমিন ইউনিটের বিটুমিন প্রোডাকশনটা চালু আছে। যদিও পরবর্তীতে শোধনাগারটির তৃতীয় ইউনিটে সীমিত পরিসরে বিটুমিন এবং অল্প পরিমাণে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় খুবই নগন্ন। বেসরকারি তেল শোধনাগার সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে ৬৮ টাকা লিটার পেট্রোল আর অকটেন দেয়। কিন্তু সরকার অজ্ঞাত কারণে দেশের শোধনাগার থেকে ৬৮ টাকা লিটার অকটেন না কিনে ১৫০ টাকা দরে ৩৩ হাজার টন অকটেন বিদেশ থেকে আমদানি করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উঠে আসে। সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড বা এসপিএল বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, যা ২০১৩সালের জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু করে। এটি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস কনডেনসেট এবং ন্যাপথা থেকে জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন করে। এদিকে, সরকার তেলের দাম বৃদ্ধির পরও লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে খোলা থাকা পেট্রল পাম্পগুলোতে। শুধু শহরে নয়, দেশের গ্রামাঞ্চলে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিভিন্ন পাম্পগুলোর একই চিত্র। ফলে মহাসড়কগুলোতে যানজট এখন নিত্য দিনের সঙ্গি। সরকার জালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। এরওপর বাড়ানো হয়েছে এলপিজির দাম। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাসভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার হতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।এদিকে, গত ২১ এপ্রিল সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, জ্বালানির সঙ্গে নিত্যপণ্যের দামও ‘যৌক্তিকভাবে’ সমন্বয় করা হবে। তবে, কোন পদ্ধতিতে কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে হবে তা স্পষ্ট করেননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের মুল্য বৃদ্ধির সাথে প্রতিটি জিনিসের মূল্য বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা তৈরি হয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল সংকট কবে শেষ হবে এবং তেল সরবরাহ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা অনিশ্চত। তবে, দাম বাড়ালেও তেলের সরবরাহ বাড়বে কিনা, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি সরকারকে আপাতত অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় থেকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতি কতটা চাপের মুখে পড়বে তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।সরকার এবং গণমাধ্যম যা প্রকাশ করছে তা বাহ্যিক দৃষ্টিতে পরোক্ষাভাবে দৃশ্যমান কিন্তু, দেশের পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের দিনের পর দিন দীর্ঘ সারি, জ¦ালানী সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, মুল্য বৃদ্ধি সবকিছুই প্রত্যক্ষ দৃশ্যমান। গবেষণা সংস্থা সিপিডির মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি হয়তো সরকারের নিরুপায় সিদ্ধান্ত। কিন্তু শুল্কসহ মূল্য বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোক্তাদেরকে ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি মূল্যে যেন কিনতে না হয়, এখন সরকারের সেই বিষয়টা নিশ্চিত করা জরুরী। দেশে তেল বা জ্বালানী সংকট নেই বলে আবারও সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ¦লানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী। অপরদিকে, বাস্তবে পাম্পগুলোতে তেল না থাকায় অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু পাম্পই নয়, রাষ্ট্রের একমাত্র সরকারি তেল শোধানাগারটিও আংশিক বন্ধ। যদি তেল সংকট নাই থাকে, তাহলে কেন এতসব ঘটনা ? এ সকল প্রশ্নে আবার বাংলা প্রবাদে সুর মেলাতে হয়, ভাসুরের নাম সব বৌয়েরাই জানে, শুধু মুখে আনতে সরম পায়। তেল নিয়ে দেশে যে তেলেসমাতি হচ্ছে তার কারণও বোধ করি সংশ্লিষ্টরাই ভালো জানেন। শুধু মুখে বলতে পারছেন না। কিন্তু কেন ? তবে, সাধারণ জনগণ কোন তেলেসমাতি দেখতে চাননা। তারা চান দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর নির্বাচিত সরকারের সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা মুলক আচরণ।