প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
মোটরসাইকেল বাজারে ভয়াবহ ধস, আলোচনায় ইলেকট্রিক যানবাহনা
||
জ্বালানি সংকটে দেশের মোটরসাইকেল ও কৃষিযন্ত্রের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত দেড় মাস ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যানবাহন ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিক্রিতে। খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে মোটরসাইকেল বিক্রি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও এপ্রিল মাসে বাজারে নাটকীয় পতন ঘটে। সাধারণত ‘পিক সিজন’ হিসেবে বিবেচিত এপ্রিলে যেখানে গত বছর ৩১ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল, এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিক্রি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা সামগ্রিক বাজারকে গভীর সংকটে ফেলেছে।ডিলার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা নতুন মোটরসাইকেল কেনা থেকে সরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে উচ্চ আয়ের ক্রেতারাও ব্যক্তিগত গাড়ি কেনায় আগ্রহ হারাচ্ছেন। এর ফলে রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারও সংকুচিত হয়ে মার্চের তুলনায় এপ্রিলে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।শুধু যানবাহন নয়, কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতেও এই সংকটের প্রভাব তীব্র। ডিজেল ও পেট্রোলচালিত শ্যালো মেশিন, পাওয়ার টিলার, জেনারেটর ও সেচ পাম্পের বিক্রি অনেক এলাকায় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায়ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।তবে সংকটের মধ্যেও ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে বৈদ্যুতিক যানবাহনে। বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে ক্রেতারা ধীরে ধীরে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ও স্কুটির দিকে ঝুঁকছেন। কোথাও কোথাও এ ধরনের যানবাহনের বিক্রি দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা দেখা দিতে পারে, যা পরিবহন, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা সরকারের কাছে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিকল্প আমদানি ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত