প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
‘গুপ্ত’ ছোট শব্দে বড় রাজনৈতিক সংঘাতা
||
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছুটা স্থিতিশীল থাকা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ‘গুপ্ত’ শব্দকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি স্থানীয় বিতর্ক এখন ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও পাবনার ক্যাম্পাস রাজনীতিতে, যেখানে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্যে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।ঘটনার সূত্রপাত চট্টগ্রাম সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে। সেখানে ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা থাকলেও পরবর্তীতে সেটির একটি অংশ মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দ যুক্ত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যা দ্রুত অন্যান্য ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা ও রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সিট বরাদ্দ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়।বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার পেছনে কেবল একটি শব্দ নয়, বরং রয়েছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব, ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই এবং আসন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন, নেতৃত্বের বৈধতা এবং হলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হলভিত্তিক রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতা রয়েছে। এক পক্ষ দাবি করছে, প্রতিপক্ষ সংগঠন অনানুষ্ঠানিক বা আড়ালভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে, অন্য পক্ষ আবার বলছে, এটি রাজনৈতিক দুর্বলতা ঢাকার কৌশলগত প্রচারণা।এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফটোকার্ড বিতর্ক এবং আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ নিয়ে নতুন করে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে অনেক স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্যাম্পাসগুলোতে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছোট একটি শব্দকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন বৃহত্তর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। জাতীয় রাজনীতির টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অবস্থান নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতা এবং নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে ক্যাম্পাসগুলো এখন কৌশলগত লড়াইয়ের ময়দান।বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মতে, ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড অনেকাংশেই জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রভাব দ্বারা পরিচালিত হয়। ফলে ক্যাম্পাসের অস্থিরতা মূলত বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।সার্বিক পরিস্থিতিতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, আসন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্যাম্পাস রাজনীতি আপাতত এক অনিশ্চিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত