প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বজ্রপাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, সচেতনতার অভাবেই ঝুঁকিতে জীবনা
||
দেশজুড়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে বজ্রপাতে ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতি বছরই এমন চিত্র দেখা গেলেও প্রাণহানি কমছে না, বরং সময়ের সঙ্গে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার ঘাটতিই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ।বাংলাদেশে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময়কে প্রাক-বর্ষা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এই সময়েই বছরে হওয়া মোট বজ্রঝড়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ সংঘটিত হয়। এপ্রিল থেকে এর তীব্রতা বাড়তে শুরু করে এবং মে মাসে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। গড়ে এই সময়ে প্রায় ১৩ দিন বজ্রঝড় হয়, যার সঙ্গে থাকে দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি।আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান বজ্রপাতের অন্যতম কারণ। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বাতাস এবং উত্তর-পশ্চিমের উষ্ণ বাতাসের সংঘাতে তৈরি হয় বজ্রমেঘ। বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।গবেষণা বলছে, গত কয়েক দশকে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নব্বইয়ের দশকে যেখানে বছরে গড়ে ৩০ জন মারা যেতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বজ্রমেঘ চেনা এবং দ্রুত আশ্রয় নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে এই মৃত্যু অনেকাংশে কমানো সম্ভব। আকাশে অস্বাভাবিক উঁচু মেঘ দেখা গেলে তা বজ্রমেঘের ইঙ্গিত। বজ্রের আলো দেখার পর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে শব্দ শোনা গেলে তা কাছাকাছি বজ্রঝড়ের সংকেত, এ অবস্থায় অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা জরুরি।খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা জলাশয়ে অবস্থান সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাতের সময় পাকা ঘরের ভেতরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকা, দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং ধাতব বস্তু স্পর্শ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।তাদের মতে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কবার্তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে পারলে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত