প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
রাজধানীতে আবারো হকারদের দৌরাত্ম, সড়ক বন্ধ না করার দাবিা
||
দৃষ্টি প্রতিবেদক :কথায় আছে, “যেই লাউ, সেই কদু”। দিনের হিসেবে মাস হয়নি। এরই মাঝে আবারও রাজধানীতে বিভিন্ন দোকান দিয়ে বসতে শুরু করেছে উচ্ছেদ হওয়া হকাররা। গত সপ্তাহখানেক আগে থেকে কিছু কিছু স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে তাদেরকে বসতে দেখা গেলেও, এখন হরহামেশাই চোখে পড়ছে। ফলে মাঝের কয়েকটা দিন কিছুটা যানজট এবং ফুটপাতে অবাধে চলাচল করতে পারলেও আবারও নগরে ফিরে এসেছে চিরচেনা যানজট।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র তথ্য মতে, গত ১ এপ্রিল থেকে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জায়গায় হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় ৫ এপ্রিল। পাঁচ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিভিন্ন দোকান ও অবৈধস্থাপনা অপসারণ করা হয়। শুধু অপসারণ নয়, আইন বা নির্দেশনা না মানায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানাসহ দেওয়া হয়েছে জেল ও নানাবিধ শাস্তিও। শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযানের শেষ দিন অর্থাৎ ৫ এপ্রিল একদিনে প্রায় সাড়ে তিন লাখ তেত্রিশ হাজার নগদ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে ৯ জনকে।এদিকে, ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট দুই শতাধিক দোকান বা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে প্রায় একশো জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নগদ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এই পাঁচ দিনে মাত্র ১১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে গিয়েছে এবং কিছু ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাঁজা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ধরে নিয়ে যদি প্রশ্ন করা হয়, “তাতে সরকারের কতোটুকু লাভ বা ক্ষতি হয়েছে। এতে কি স্থায়ী সমাধান হয়েছে ? যদি স্থায়ী সমাধান না হয়ে থাকে তাহলে কেন কিছু দিন পর পর তাদের ওপর এমন শারীরিক, আর্থিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় ?গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে রাজধানীর গুলিস্তান, গোলাপ শাহ মাজার এবং বায়তুল মোকাররম এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন ফুটপাত ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, পাঁচ দিনের উচ্ছেদ অভিযান ছিল লোক দেখানো। উচ্ছেদের অন্তরালে মুলত নতুন বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের চাঁদা পাওয়ার বিষয়টা পাকাপোক্ত করা হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, ১ এপ্রিলে উচ্ছেদের পর থেকে তাদের খুব কষ্টের মধ্যে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। যদিও চাঁদা নেওয়া ব্যক্তিরা উচ্ছেদের দুই দিন পর থেকেই বলেছিল, কয়টা দিন অপেক্ষা করতে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরাও সেইটা বিশ^াস করি, কারণ এর আগেরও সরকারের সময়ও এমন ঘটনা ঘটেছে। তারপরও নতুন সরকার প্রথম থেকেই যেভাবে পরিবর্তনের কথা বলছিল সত্যিই একটা আতঙ্কেও ছিলাম। এর মধ্যে যাদের যা কামানোর কামিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেন। এদিকে, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, গোলাপ শাহ মাজার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা শুধু ফুটপাত নয়, ফুটপাত ছেড়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের জন্য থাকা রাস্তায় ছোট চাকা (বিয়ারিং) যুক্ত ভ্যান গাড়িতে করে মালামাল নিয়ে রাস্তার প্রায় অর্ধেকটা দখল করে ব্যবসা করছেন। এতে করে ফ্লাইওভার থেকে নেমে আসা যানবাহন এবং ফ্লাইওভারে উঠতে যাওয়া যানবাহনগুলো চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিবদ্ধকতা হওয়ায় উভয় পাশেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রীবাহি বাস কাউন্টারের কর্মী জানায়, ভাই পুরা রাস্তায় কোন সমস্যা নাই। যানজট থেইকা (থেকে) বাঁচতে ফ্লাইওভার করছে, আর সব রাস্তা বালা (ভালো) আইয়া ব্রীজেরতে (ব্রীজ থেকে) নামতে যতো কাহিনী (ঝামেলা)। এইটুক (এতোটুকু) রাস্তা আইতে আদা (আঁধা) গন্টা (ঘন্টা) লাইগ্গা (লেগে) যায়। আর প্যাসেঞ্জাররা দাড়ায় থাহে (থাকে), লাইন যায়গা (চলে যায়) ওই মাথা পর্যন্ত। কি-যে একটা ঝামেলায় আছি। তবে তাদের দাবি, যারা ফুটপাতে ব্যবসা করে, তারাও মানুষ। গরিব, কিছু না কিছু করে খেতে হবে। তারা ব্যবসা করে। চুরিতো করেনা। কিন্তু তারা যেন রাস্তায় না আসে। তাদের জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গা ও সময় নির্ধারণ করে দিলে এ সমস্যার কিছুটা হলে সমাধান হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত