প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
আওয়ামী দোসরদের দখলে টেলিযোগাযোগ খাতা
ইউসুফ আলী প্রধান , নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আর্থিক অনিয়ম, লাইসেন্স বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই খাতে একতরফা আধিপত্য বিস্তার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এবং নথিপত্রে উঠে এসেছে। অভিযোগের তীর বেসিস-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, মঈন উদ্দিন আহমেদ এবং বিটিআরসি ও মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দিকে।প্রাপ্ত তথ্য ও নথি অনুযায়ী, যথাযথ নিয়ম না মেনেই একটি বেসরকারি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ’ কোটি টাকার অবকাঠামো ও সরঞ্জাম জোরপূর্বক দখল করে ‘রেড ডাটা’ নামক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে আইএসপি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রক্রিয়ায় সৈয়দ আলমাস কবীর এবং তার সহযোগী মঈন উদ্দিন আহমেদ সরাসরি সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) বিধান লঙ্ঘন এবং মূল মালিকদের চাপ প্রয়োগ করে ব্যবসা হস্তান্তরে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটকে প্রশাসনিক সুরক্ষা দিচ্ছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং টেলিটকের পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম। তিনি বিগত সরকারের সময় থেকে প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন আইএসপি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা হস্তান্তরে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করেছেন বলে সূত্র দাবি করেছে।একই সাথে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্সিং শাখার উপ-পরিচালক নাহিদুল হাসানের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কমিশনে অবস্থানরত প্রভাবশালী মহলের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছেন এবং এই সিন্ডিকেটের অবৈধ কার্যক্রমের পথ সুগম করে দিচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরণের ‘ছায়া প্রশাসন’ সরকারের সংস্কারমূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।সৈয়দ আলমাস কবীরের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যার মামলার পাশাপাশি বিগত সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। কড়াইল বস্তিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণের বিতর্কিত প্রস্তাবের পেছনেও তার ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল বলে জানা যায়। সম্প্রতি তিনি গ্রেফতার হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয় রয়েছেন।বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন-২০০১ অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও, এই সিন্ডিকেট আইনের তোয়াক্কা করছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম ও লাইসেন্স বাণিজ্য চলতে থাকলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা ধ্বংস হবে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম বৈষম্যের শিকার হবেন।এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টেলিযোগাযোগ খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত