প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শৈল্পিক কারিগর বাবুই পাখিা
সৌরভ, মন্ডল ||
বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই’— কবি রজনীকান্ত সেনের সেই অমর কবিতার শৈল্পিক কারিগর বাবুই পাখি এখন প্রকৃতি থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক এই পাখির নিপুণ কারুকার্যে বোনা ঝুলন্ত বাসা এখন আর সচরাচর চোখে পড়ে না। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খুলনার মোংলার বাসখালি এলাকায় একটি তালগাছে দেখা মিলেছে নান্দনিক এই ঝুলন্ত বাসার।সরেজমিনে দেখা যায়, মোংলার বাসখালি এলাকার রাস্তার পাশে একটি তালগাছের পাতায় অত্যন্ত নিপুণভাবে বাসা বুনেছে একদল বাবুই পাখি। খড়, তালপাতা আর ঘাসের লতাপাতা দিয়ে বোনা এই দৃষ্টিনন্দন বাসাগুলো বাতাসে দুলছে। নীল আকাশের নিচে সবুজ তালগাছের পাতায় এমন নিখুঁত কারুকার্য দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মাঝেও বেশ কৌতূহল দেখা দিয়েছে।এক সময় গ্রামবাংলার তাল, নারিকেল বা খেজুর গাছে শত শত বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে নির্বিচারে গাছ নিধন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শিকারিদের উপদ্রবে এই পাখি এখন বিলুপ্তপ্রায়। আধুনিক যুগের ইট-পাথরের দালান আর বনভূমি কমে যাওয়ায় এরা হারিয়ে ফেলছে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ সময় পর এলাকায় বাবুই পাখির বাসা দেখে তারা আনন্দিত। এই বাসাগুলো রক্ষা করা এবং পাখিদের যেন কেউ বিরক্ত না করে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হলে জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা জরুরি। বাবুই পাখির মতো এমন উপকারী ও শৈল্পিক পাখি আমাদের পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশবিদরা বলছেন, এই পাখির বংশবৃদ্ধি ও অভয়ারণ্য নিশ্চিত করতে তালগাছসহ দেশি গাছ রোপণ এবং রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত