প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজের কেন্দ্রবিন্দু হোক জাতিসংঘ : তারেক রহমানা
||
অনলাইন ডেস্ক: সংঘাত নিরসনে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি, কূটনীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এই অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষণে তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক শান্তির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক পুনর্গঠনের সামগ্রিক রূপরেখা উপস্থাপন করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সংঘাতের টেকসই সমাধান পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা, সমতা এবং কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই সম্ভব। বিভিন্ন রাষ্ট্রে উন্নয়ন বাজেট সামরিক খাতে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি অবিচল সমর্থন ব্যক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারী ও পুরুষ সদস্যদের ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটটির উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য জীবন রক্ষাকারী বৈশ্বিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানান তিনি।জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে জানিয়ে তিনি কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় জোরালো আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দেশে পরিবেশ সংরক্ষণে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এছাড়া আন্তঃসীমান্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’-এ বাংলাদেশের স্বাক্ষরের বিষয়টি তিনি বিশ্বমঞ্চে জানান।অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশ পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন’ (থ্রি-আর) কৌশল অনুসরণ করছে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) সঙ্গে সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির সামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সুফল যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য হয়, সেজন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জাতিসংঘের সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে টেকসই উত্তরণের পথে সবার সম্মিলিত অংশীদারত্বের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত