ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

হামে শিশুমৃত্যু মিছিল কেন থামানো যাচ্ছে না?

দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে, আর চলতি বছর মোট মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৩০০। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য বিভাগের পদক্ষেপ যথেষ্ট ছিল কি না—এ নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে জনস্বাস্থ্য মহলে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুজন এবং উপসর্গ নিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৩১১ জনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাদুর্ভাবের সময়ে উপসর্গ থাকা মৃত্যুকেও হামের মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা উচিত, ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও গুরুতর।প্রাদুর্ভাবের শুরুটা ছিল নীরব। বছরের শুরুতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে প্রথম শনাক্ত হলেও বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি। পরে মার্চের মাঝামাঝি রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এপ্রিলের শেষদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলাতেই হাম ছড়িয়ে গেছে, আর আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের নিচের শিশু।সরকার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করলেও তা অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এপ্রিলজুড়ে ধাপে ধাপে টিকা কার্যক্রম চালু হলেও এর আগেই সংক্রমণ ব্যাপক আকার নেয়।শিশুমৃত্যু থামছে না—এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। হাসপাতালগুলোতে জটিল অবস্থায় রোগী আসছে, অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা মারাত্মক আকার নিচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্সিজেন সাপোর্ট ও সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেক মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব ছিল। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিশুকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে শেষ পর্যায়ে। আবার কোথাও কোথাও আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।অন্যদিকে তথ্য ঘাটতিও বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। মৃতদের বয়স, জটিলতা, হাসপাতালে আসতে বিলম্ব—এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ছে।সরকারি হিসাব বলছে, এ বছর প্রায় ৪২ হাজার রোগী হামের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছে। তবে পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা ও বেসরকারি চিকিৎসার কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সব রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি না করে ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, তীব্র দুর্বলতা বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত, রোগী আলাদা রাখা, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং টিকাদান জোরদার—এই চারটি পদক্ষেপ একসঙ্গে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তা না হলে শিশুমৃত্যুর এই ধারা থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।

হামে  শিশুমৃত্যু মিছিল কেন থামানো যাচ্ছে না?