নাটোরর গুরুদাসপুর উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মাত্র সাত বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা চেষ্টা মামলায় ২১ বছর বয়সী আসামি দেখিয়ে আদালতে হাজির করার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার শিশু আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।ভুক্তভোগী শিশুটি ধারাবারিষা ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলের পোশাক পরেই সে আদালতে হাজির হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল বিদ্যালয় মাঠে সংঘটিত এক মারামারির ঘটনায় তাকে আসামি করা হয় এবং থানায় দায়ের করা এফআইআরে তার বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হয়।আদালতে শুনানির সময় জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আসামির বয়স নিয়ে প্রশ্ন করলে আইনজীবীর দেওয়া নথি যাচাই করে শিশুটির প্রকৃত বয়স সাত বছর সাত মাস দুই দিন নির্ধারণ করা হয়। বিষয়টি দেখে আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরে ৫০০ টাকার জামানতে শিশুটির জামিন মঞ্জুর করা হয়।একই সঙ্গে মামলার বাদী শাহানুর রহমানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শিশুটির আইনজীবী জানান, বয়স নিয়ে ভুল নয়, বরং আক্রোশবশত শিশুটিকে বড় করে দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে।শিশুটির বাবা বলেন, ঘটনার সময় তার ছেলে স্কুলে ক্লাসে ছিল এবং পুরো ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও লিখিতভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে তিনি জানান। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।অন্যদিকে বাদী শাহানুর রহমান দাবি করেন, অনুমানের ভিত্তিতে বয়স লেখা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের নামের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে।গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুরুল আলম বলেন, ঘটনাটি একটি পূর্বের মারামারি মামলার অংশ। শিশুটির বয়স ভুলভাবে উল্লেখ হওয়ার বিষয়টি তদন্তে জানা যায়নি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিশুটির নাম বাদ দেওয়া হবে।ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আইনজীবী ও স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এমন ভুল ও অবহেলা বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং নিরপরাধ শিশুর জন্য মারাত্মক হয়রানির কারণ হতে পারে।