দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যেখানে সরবরাহ সংকটের আড়ালে মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। বাজারে পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকার পরও বোতলজাত সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে অপ্রতুল, ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা তেল কিনছেন।
ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বলছে, দেশের সয়াবিন তেলের বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র কয়েকটি কোম্পানি। এই সীমিত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিয়ে তারা সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং পরে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ভোক্তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অন্যদিকে মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সরকারকে বোতলজাত তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও অনুমোদনের আগেই বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।
সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টন ভোজ্যতেল মজুত রয়েছে এবং আরও বড় পরিমাণ আমদানির পথে। অর্থাৎ সরবরাহ সংকটের বাস্তব ভিত্তি না থাকলেও বাজারে সংকটের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় অর্ডার দিলেও খুব কম পরিমাণ তেল সরবরাহ পাচ্ছেন, যা বাজারে অপ্রতুলতা বাড়াচ্ছে।
এদিকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার স্থিতিশীল রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য না বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ থাকলেও তাৎক্ষণিক সংকটের বড় কারণ সরবরাহ ব্যবস্থার কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ। কার্যকর তদারকি, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং মজুত পরিস্থিতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যেখানে সরবরাহ সংকটের আড়ালে মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। বাজারে পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকার পরও বোতলজাত সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে অপ্রতুল, ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা তেল কিনছেন।
ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বলছে, দেশের সয়াবিন তেলের বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র কয়েকটি কোম্পানি। এই সীমিত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিয়ে তারা সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং পরে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ভোক্তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অন্যদিকে মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সরকারকে বোতলজাত তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও অনুমোদনের আগেই বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।
সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টন ভোজ্যতেল মজুত রয়েছে এবং আরও বড় পরিমাণ আমদানির পথে। অর্থাৎ সরবরাহ সংকটের বাস্তব ভিত্তি না থাকলেও বাজারে সংকটের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় অর্ডার দিলেও খুব কম পরিমাণ তেল সরবরাহ পাচ্ছেন, যা বাজারে অপ্রতুলতা বাড়াচ্ছে।
এদিকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার স্থিতিশীল রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য না বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ থাকলেও তাৎক্ষণিক সংকটের বড় কারণ সরবরাহ ব্যবস্থার কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ। কার্যকর তদারকি, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং মজুত পরিস্থিতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন