ঢাকা    শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

বাংলাদেশে বড় প্রভাবের আশঙ্কা নেই

বাংলাদেশে রোববার ঘূর্ণিঝড়ের আভাস



বাংলাদেশে রোববার ঘূর্ণিঝড়ের আভাস
ফাইল ফটো

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আগামীকাল (রোববার) দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সন্ধ্যায় নিম্নচাপটি পশ্চিম–উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছিল।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শনিবার রাতে বলেন, “নিম্নচাপটি আজ (শনিবার) মধ্যরাতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর আগামীকাল (রোববার) দুপুর নাগাদ এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এই ঘূর্ণিঝড়ের বাংলাদেশে তেমন প্রভাব পড়বে না। সমুদ্রপথে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই, তবে এর প্রভাবে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে কোথাও কোথাও হালকা বা মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৩০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ২৫৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১ হাজার ৩০৫ কিলোমিটার এবং পায়রা বন্দর থেকে ১ হাজার ২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাগর উত্তাল রয়েছে।

নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে পশ্চিম–উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘মন্থার’, যার অর্থ থাই ভাষায় ‘সুন্দর ফুল’। থাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত এই নাম বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-এর নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী রাখা হয়েছে।

সাগরে অবস্থানরত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত কয়েক বছরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় যেমন—‘মোখা’ (২০২৩), ‘সিত্রাং’ (২০২২) এবং ‘আম্পান’ (২০২০)—বাংলাদেশের উপকূলে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। তবে এবারের ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থার’-এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকবে বলে মনে করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি ঋতুর শেষভাগে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ও বাতাসের প্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ‘মন্থার’ মূলত ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

সতর্কবার্তা: আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে কোনো নৌযানকে গভীর সাগরে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিষয় : ঘূর্ণিঝড়

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


বাংলাদেশে রোববার ঘূর্ণিঝড়ের আভাস

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আগামীকাল (রোববার) দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সন্ধ্যায় নিম্নচাপটি পশ্চিম–উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছিল।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শনিবার রাতে বলেন, “নিম্নচাপটি আজ (শনিবার) মধ্যরাতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর আগামীকাল (রোববার) দুপুর নাগাদ এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এই ঘূর্ণিঝড়ের বাংলাদেশে তেমন প্রভাব পড়বে না। সমুদ্রপথে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই, তবে এর প্রভাবে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে কোথাও কোথাও হালকা বা মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৩০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ২৫৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১ হাজার ৩০৫ কিলোমিটার এবং পায়রা বন্দর থেকে ১ হাজার ২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাগর উত্তাল রয়েছে।

নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে পশ্চিম–উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘মন্থার’, যার অর্থ থাই ভাষায় ‘সুন্দর ফুল’। থাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত এই নাম বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-এর নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী রাখা হয়েছে।

সাগরে অবস্থানরত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত কয়েক বছরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় যেমন—‘মোখা’ (২০২৩), ‘সিত্রাং’ (২০২২) এবং ‘আম্পান’ (২০২০)—বাংলাদেশের উপকূলে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। তবে এবারের ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থার’-এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকবে বলে মনে করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি ঋতুর শেষভাগে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ও বাতাসের প্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ‘মন্থার’ মূলত ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

সতর্কবার্তা: আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে কোনো নৌযানকে গভীর সাগরে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত