বাক-স্বাধীনতা কি কেবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লাইসেন্স, নাকি গঠনমূলক রাষ্ট্র সংস্কারের হাতিয়ার? ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পথচলায় এই প্রশ্নটি এখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে যে আক্ষেপ ঝরে পড়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং গোটা জাতির বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ড. ইউনূসকে লড়তে হয়েছে চতুর্মুখী প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা থেকে শুরু করে বিমান দুর্ঘটনা-সবই সামলাতে হয়েছে তাকে। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা। গত এক বছরে প্রায় ১৯৪টি ছোট-বড় আন্দোলন হয়েছে। রিকশাচালক থেকে শুরু করে আনসার সদস্য-প্রত্যেকেই যেন নিজের দাবি আদায়ে রাষ্ট্রকে জিম্মি করতে চেয়েছেন। অথচ এই সংকটকালীন সময়ে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার বদলে আমরা তাকে কেবল চাপ প্রয়োগ করে গেছি।
বিস্ময়কর হলো, দীর্ঘ ১৫ বছর পর মানুষ কথা বলার যে স্বাধীনতা পেয়েছে, সেই স্বাধীনতাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত চরিত্র হননে। তাকে ‘সুদখোর’ বা ‘বিদেশি দালাল’ বলে গালি দিলেও রাষ্ট্র কাউকে গ্রেফতার করতে আসেনি। এই বাক-স্বাধীনতা কি আগের শাসনামলে কল্পনা করা যেত? আজ যারা সিন্ডিকেট আর চাঁদাবাজি টিকিয়ে রাখতে তাকে বাধা দিয়েছেন, তারা কি ভেবে দেখেছেন অন্য কোনো কঠোর সরকার আসলে এই বলার সাহসটুকু কি অবশিষ্ট থাকবে?
প্রশাসনিক অসহযোগিতা, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার মোহ এবং বৈদেশিক ষড়যন্ত্রের মাঝেও তিনি দেশের রিজার্ভ ৩০ বিলিয়নে উন্নীত করা কিংবা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর মামলার পুনতদন্ত শুরু করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে দক্ষ লোক নিয়োগ দিতে গিয়েও তাকে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বাঁধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
আমরা কি তবে একজন আন্তর্জাতিক মানের শান্ত ও ভদ্র নেতা পাওয়ার যোগ্য নই? ড. ইউনূস হয়তো আমাদের বর্বরতা ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে পারছেন না, কিন্তু তার ব্যর্থতা মানে একটি আধুনিক ও সভ্য বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যখন কোনো কঠোর স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এই শান্ত মানুষটিকে আমরা বারবার খুঁজবো। কিন্তু ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাবে না তো?
সাবিনা নূর
শিক্ষার্থী সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি.

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাক-স্বাধীনতা কি কেবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লাইসেন্স, নাকি গঠনমূলক রাষ্ট্র সংস্কারের হাতিয়ার? ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পথচলায় এই প্রশ্নটি এখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে যে আক্ষেপ ঝরে পড়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং গোটা জাতির বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ড. ইউনূসকে লড়তে হয়েছে চতুর্মুখী প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা থেকে শুরু করে বিমান দুর্ঘটনা-সবই সামলাতে হয়েছে তাকে। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা। গত এক বছরে প্রায় ১৯৪টি ছোট-বড় আন্দোলন হয়েছে। রিকশাচালক থেকে শুরু করে আনসার সদস্য-প্রত্যেকেই যেন নিজের দাবি আদায়ে রাষ্ট্রকে জিম্মি করতে চেয়েছেন। অথচ এই সংকটকালীন সময়ে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার বদলে আমরা তাকে কেবল চাপ প্রয়োগ করে গেছি।
বিস্ময়কর হলো, দীর্ঘ ১৫ বছর পর মানুষ কথা বলার যে স্বাধীনতা পেয়েছে, সেই স্বাধীনতাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত চরিত্র হননে। তাকে ‘সুদখোর’ বা ‘বিদেশি দালাল’ বলে গালি দিলেও রাষ্ট্র কাউকে গ্রেফতার করতে আসেনি। এই বাক-স্বাধীনতা কি আগের শাসনামলে কল্পনা করা যেত? আজ যারা সিন্ডিকেট আর চাঁদাবাজি টিকিয়ে রাখতে তাকে বাধা দিয়েছেন, তারা কি ভেবে দেখেছেন অন্য কোনো কঠোর সরকার আসলে এই বলার সাহসটুকু কি অবশিষ্ট থাকবে?
প্রশাসনিক অসহযোগিতা, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার মোহ এবং বৈদেশিক ষড়যন্ত্রের মাঝেও তিনি দেশের রিজার্ভ ৩০ বিলিয়নে উন্নীত করা কিংবা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর মামলার পুনতদন্ত শুরু করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে দক্ষ লোক নিয়োগ দিতে গিয়েও তাকে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বাঁধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
আমরা কি তবে একজন আন্তর্জাতিক মানের শান্ত ও ভদ্র নেতা পাওয়ার যোগ্য নই? ড. ইউনূস হয়তো আমাদের বর্বরতা ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে পারছেন না, কিন্তু তার ব্যর্থতা মানে একটি আধুনিক ও সভ্য বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যখন কোনো কঠোর স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এই শান্ত মানুষটিকে আমরা বারবার খুঁজবো। কিন্তু ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাবে না তো?
সাবিনা নূর
শিক্ষার্থী সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি.

আপনার মতামত লিখুন