খুলনার দাকোপ উপজেলার পশুর নদী তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী বাণীশান্তা যৌনপল্লি এখন নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। প্রমত্তা পশুর নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হতে বসেছে কয়েক দশকের পুরনো এই পল্লীটি। বর্তমানে পল্লীর একাংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় এবং বাকি অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এখানকার কয়েকশ বাসিন্দা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশুর নদীর তীব্র স্রোতে পল্লীর সীমানা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এখানকার বাসিন্দারা মূলত সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নারী। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারাতে বসে তারা এখন দিশেহারা। এখানকার এক বাসিন্দা অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, নদী আমাদের সব কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের তো যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। সমাজ আমাদের এমনিতেই ভালো চোখে দেখে না, এখন ঘরটুকু হারালে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?"
বাণীশান্তা যৌনপল্লির ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী লাভলী বেগম (৩৮) জানান, নদী ভাঙনের কারণে ঘর সরাতে সরাতে আর জায়গা নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "নদীতে ঘর ভেঙে যায়, আবার কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে নতুন করে তৈরি করতে হয়। এভাবে কি জীবনযাপন করা যায়? এখানে আমাদের ১০০টি পরিবারের প্রায় ১২৫ জন মানুষ বসবাস করছি। দুর্যোগের নাম শুনলে ভয়ে বুক কাঁপে, নদী থেকে সরাসরি ঝড় এসে আমাদের ঘরে লাগে। এছাড়া আমাদের প্রচণ্ড খাবার পানির সংকট। অনেক দূর থেকে নৌকায় করে পানি কিনে আনতে হয়। চারপাশে সব লবণ পানি। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই।
পল্লীর বাসিন্দাদের সংগঠনগুলো জানাচ্ছে, ভাঙনের ফলে এখানকার নারীরা শুধু বসতভিটা নয়, বরং তাদের আয়ের একমাত্র উৎসটিও হারাচ্ছেন। দুর্যোগকালীন সময়ে তারা সব থেকে বেশি আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। দীর্ঘস্থায়ী কোনো পুনর্বাসন পরিকল্পনা না থাকায় ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন তারা।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, "এই পল্লীর বাসিন্দাদের জীবনযাপন খুবই কষ্টের, আমি নিজে গিয়ে তা দেখেছি। শীতের সময় তাদের কম্বল দিতে গিয়েছি। নদী ভাঙনে তাদের অবস্থা সত্যিই শোচনীয়। তাদের পুনর্বাসনে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে ব্যাপারে আমরা গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখবো।"
অন্যদিকে, খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহির মাজহার জানান, "বাণীশান্তা এলাকার নদী ভাঙনের বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ না থাকায় তাৎক্ষণিক কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাজেট পেলে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাণীশান্তা যৌনপল্লির এই বাসিন্দারা সমাজের অংশ হলেও তাদের এই মহাবিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানুষের বড় অভাব। নদীর আগ্রাসী ক্ষুধা থেকে এই প্রান্তিক মানুষদের শেষ আশ্রয়টুকু বাঁচাতে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
খুলনার দাকোপ উপজেলার পশুর নদী তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী বাণীশান্তা যৌনপল্লি এখন নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। প্রমত্তা পশুর নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হতে বসেছে কয়েক দশকের পুরনো এই পল্লীটি। বর্তমানে পল্লীর একাংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় এবং বাকি অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এখানকার কয়েকশ বাসিন্দা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশুর নদীর তীব্র স্রোতে পল্লীর সীমানা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এখানকার বাসিন্দারা মূলত সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নারী। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারাতে বসে তারা এখন দিশেহারা। এখানকার এক বাসিন্দা অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, নদী আমাদের সব কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের তো যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। সমাজ আমাদের এমনিতেই ভালো চোখে দেখে না, এখন ঘরটুকু হারালে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?"
বাণীশান্তা যৌনপল্লির ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী লাভলী বেগম (৩৮) জানান, নদী ভাঙনের কারণে ঘর সরাতে সরাতে আর জায়গা নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "নদীতে ঘর ভেঙে যায়, আবার কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে নতুন করে তৈরি করতে হয়। এভাবে কি জীবনযাপন করা যায়? এখানে আমাদের ১০০টি পরিবারের প্রায় ১২৫ জন মানুষ বসবাস করছি। দুর্যোগের নাম শুনলে ভয়ে বুক কাঁপে, নদী থেকে সরাসরি ঝড় এসে আমাদের ঘরে লাগে। এছাড়া আমাদের প্রচণ্ড খাবার পানির সংকট। অনেক দূর থেকে নৌকায় করে পানি কিনে আনতে হয়। চারপাশে সব লবণ পানি। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই।
পল্লীর বাসিন্দাদের সংগঠনগুলো জানাচ্ছে, ভাঙনের ফলে এখানকার নারীরা শুধু বসতভিটা নয়, বরং তাদের আয়ের একমাত্র উৎসটিও হারাচ্ছেন। দুর্যোগকালীন সময়ে তারা সব থেকে বেশি আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। দীর্ঘস্থায়ী কোনো পুনর্বাসন পরিকল্পনা না থাকায় ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন তারা।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, "এই পল্লীর বাসিন্দাদের জীবনযাপন খুবই কষ্টের, আমি নিজে গিয়ে তা দেখেছি। শীতের সময় তাদের কম্বল দিতে গিয়েছি। নদী ভাঙনে তাদের অবস্থা সত্যিই শোচনীয়। তাদের পুনর্বাসনে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে ব্যাপারে আমরা গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখবো।"
অন্যদিকে, খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহির মাজহার জানান, "বাণীশান্তা এলাকার নদী ভাঙনের বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ না থাকায় তাৎক্ষণিক কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাজেট পেলে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাণীশান্তা যৌনপল্লির এই বাসিন্দারা সমাজের অংশ হলেও তাদের এই মহাবিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানুষের বড় অভাব। নদীর আগ্রাসী ক্ষুধা থেকে এই প্রান্তিক মানুষদের শেষ আশ্রয়টুকু বাঁচাতে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন