ঢাকা    শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

রংপুরের পীরগাছা

অনাস্থার কবলে পীরগাছার ইউপি চেয়ারম্যান


প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অনাস্থার কবলে পীরগাছার ইউপি চেয়ারম্যান
ইউপি. চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৯নং কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ,ভুয়া স্বাক্ষরে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য (মেম্বার) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর কাছে লিখিতভাবে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন। ওই অনাস্থা পত্রে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৫টি দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অনাস্থা পত্রে স্বাক্ষরকারী ইউপি সদস্যগণ জানান, ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ডপ্রতি ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কার্ডধারীদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ কেজি। এভাবে ৪ হাজার ৩'শ টি কার্ডের বিপরীতে প্রায় ১২ হাজার ৯০০ কেজি (১২.৯ মেট্রিক টন) চাল চেয়ারম্যান সরাসরি আত্মসাৎ করেছেন। তিনি রাজস্ব খাতের 'উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ' থেকে টিউবয়েল স্থাপনের ৩ লক্ষ টাকা এবং রাস্তা সংস্কার ও সিসি ঢালাই প্রকল্পের ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। ইউপি সদস্যরা আরো জানান, তাদের পিআইসি (PIC) সভাপতি করা হলেও চেয়ারম্যান স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন, অথচ প্রকল্প এলাকায় কোনো কাজই করা হয়নি।

অভিযোগকারী সদস্যরা উল্লেখ করেন, নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের কোনো তোয়াক্কা না করে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে এবং কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে সরকারি বরাদ্দে হস্তক্ষেপ করছেন। এছাড়া ইউনিয়নের ১% বরাদ্দের আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকার কোনো কাজ না করেই সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিষদের সদস্যদের প্রাপ্য সম্মানী ভাতাও দীর্ঘ দিন ধরে পরিশোধ করা হচ্ছে না। তাই  স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পরিষদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের স্বাক্ষরে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। অনাস্থা পত্রে স্বাক্ষরকারী সদস্যরা হলেন ৪নং ওয়ার্ডের মো: মাসুদ রানা টেক্কা, ৯নং ওয়ার্ডের মো: মাহবুবুর রহমান মিলন, ৭নং ওয়ার্ডের মো: আব্দুর রাজ্জাক বেগ, ৬নং ওয়ার্ডের মো: শামস উদ্দিন, ২নং ওয়ার্ডের মো: আব্দুল জব্বার তোকদার এবং ১নং ওয়ার্ডের মো: মাহাবুবুর রহমান মিঠু।

ক্ষুব্ধ সদস্যরা বলেন, "আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান জালিয়াতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছেন এবং জনস্বার্থ বিঘ্নিত করছেন। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই।" তারা আরও বলেন যে, তাদের দাবির স্বপক্ষে ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে, যা তদন্তকালে উপস্থাপন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এই অনাস্থা পত্র পৌঁছানোর পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুতই তদন্ত কমিটি গঠন এবং আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তাকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


অনাস্থার কবলে পীরগাছার ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৯নং কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ,ভুয়া স্বাক্ষরে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য (মেম্বার) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর কাছে লিখিতভাবে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন। ওই অনাস্থা পত্রে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৫টি দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অনাস্থা পত্রে স্বাক্ষরকারী ইউপি সদস্যগণ জানান, ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ডপ্রতি ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কার্ডধারীদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ কেজি। এভাবে ৪ হাজার ৩'শ টি কার্ডের বিপরীতে প্রায় ১২ হাজার ৯০০ কেজি (১২.৯ মেট্রিক টন) চাল চেয়ারম্যান সরাসরি আত্মসাৎ করেছেন। তিনি রাজস্ব খাতের 'উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ' থেকে টিউবয়েল স্থাপনের ৩ লক্ষ টাকা এবং রাস্তা সংস্কার ও সিসি ঢালাই প্রকল্পের ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। ইউপি সদস্যরা আরো জানান, তাদের পিআইসি (PIC) সভাপতি করা হলেও চেয়ারম্যান স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন, অথচ প্রকল্প এলাকায় কোনো কাজই করা হয়নি।

অভিযোগকারী সদস্যরা উল্লেখ করেন, নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের কোনো তোয়াক্কা না করে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে এবং কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে সরকারি বরাদ্দে হস্তক্ষেপ করছেন। এছাড়া ইউনিয়নের ১% বরাদ্দের আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকার কোনো কাজ না করেই সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিষদের সদস্যদের প্রাপ্য সম্মানী ভাতাও দীর্ঘ দিন ধরে পরিশোধ করা হচ্ছে না। তাই  স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পরিষদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের স্বাক্ষরে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। অনাস্থা পত্রে স্বাক্ষরকারী সদস্যরা হলেন ৪নং ওয়ার্ডের মো: মাসুদ রানা টেক্কা, ৯নং ওয়ার্ডের মো: মাহবুবুর রহমান মিলন, ৭নং ওয়ার্ডের মো: আব্দুর রাজ্জাক বেগ, ৬নং ওয়ার্ডের মো: শামস উদ্দিন, ২নং ওয়ার্ডের মো: আব্দুল জব্বার তোকদার এবং ১নং ওয়ার্ডের মো: মাহাবুবুর রহমান মিঠু।

ক্ষুব্ধ সদস্যরা বলেন, "আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান জালিয়াতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছেন এবং জনস্বার্থ বিঘ্নিত করছেন। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই।" তারা আরও বলেন যে, তাদের দাবির স্বপক্ষে ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে, যা তদন্তকালে উপস্থাপন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এই অনাস্থা পত্র পৌঁছানোর পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুতই তদন্ত কমিটি গঠন এবং আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তাকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো বলে তিনি উল্লেখ করেন।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত