১৯ মাস ধরে আটকে আছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)-এর গণিত বিভাগের তিন শিক্ষার্থীর মাস্টার্সের ফল। একই বর্ষের অন্য শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই বছর আগে মাস্টার্স শেষ করলেও প্রশাসনিক জটিলতায় শেষ হচ্ছে না ওই তিন শিক্ষার্থীর। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের নন-থিসিসের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স শেষ হয়েছে। তবে এখনো আটকে আছে একই বর্ষের থিসিস গ্রুপের তিন শিক্ষার্থী এইচ এম আরাফাত, আফিদা সুলতানা ও সুইটির ফল। তাদের সব একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হলেও মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) না হওয়ায় ফল হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে সুইটি মাস্টার্স করতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সশরীরে ভাইভা দিতে হবে। এছাড়া একজনকে বাদ দিয়ে অন্যদের ভাইভা নেওয়ার নিয়ম নেই বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ফলে সুইটি অনুপস্থিত থাকায় অন্য দুইজনের ভাইভা হয়নি।
এছাড়া বিভাগটির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স শেষ হয়েছে। তবে ২০১৭-১৮ ব্যাচের ফল প্রকাশ না হওয়ায় এই ব্যাচেরও থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম আটকে রয়েছে।
ফল আটকে থাকা শিক্ষার্থী এইচ এম আরাফাত বলেন, বিভাগে সেশনজটের কারণে এমনিতেই আমাদের অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করতে অনেকদিন লেগেছে। তাছাড়া ব্যাচের অন্যরা প্রায় দুই বছর আগে মাস্টার্স শেষ করলেও আমরা এখনো রেজাল্ট পাচ্ছি না। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী বিদেশে মাস্টার্স করছে।
তার হয়তো এই ফল না হলেও চলবে, কিন্তু আমাদের তো প্রয়োজন। আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে, এ সময় তো আর ফিরে পাবো না। একজনের কারণে আমরা আটকে থাকবো এমন কোনো নিয়ম হতে পারে না।
আরাফাত আরো বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভাইভা নিলেও আমাদের পুরনো নিয়মে আটকে রাখা হচ্ছে। মাস্টার্স ছাড়া আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারছি না। চাকরির জন্যও আবেদন করতে পারছি না। একজন শিক্ষার্থীর কারণে আমাদের এমন ভোগান্তিতে ফেলতে পারে না প্রশাসন।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সজীব আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করেছি। প্রশাসনকেও জানিয়েছি। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সশরীরে ভাইভা দিতে হবে। একজন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ‘বিভাগ থেকেই ফাইল পাঠাতে দেরি করেছে। তবে বিষয়টি উপাচার্যকে জানানো হয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত জানাবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
১৯ মাস ধরে আটকে আছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)-এর গণিত বিভাগের তিন শিক্ষার্থীর মাস্টার্সের ফল। একই বর্ষের অন্য শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই বছর আগে মাস্টার্স শেষ করলেও প্রশাসনিক জটিলতায় শেষ হচ্ছে না ওই তিন শিক্ষার্থীর। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের নন-থিসিসের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স শেষ হয়েছে। তবে এখনো আটকে আছে একই বর্ষের থিসিস গ্রুপের তিন শিক্ষার্থী এইচ এম আরাফাত, আফিদা সুলতানা ও সুইটির ফল। তাদের সব একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হলেও মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) না হওয়ায় ফল হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে সুইটি মাস্টার্স করতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সশরীরে ভাইভা দিতে হবে। এছাড়া একজনকে বাদ দিয়ে অন্যদের ভাইভা নেওয়ার নিয়ম নেই বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ফলে সুইটি অনুপস্থিত থাকায় অন্য দুইজনের ভাইভা হয়নি।
এছাড়া বিভাগটির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স শেষ হয়েছে। তবে ২০১৭-১৮ ব্যাচের ফল প্রকাশ না হওয়ায় এই ব্যাচেরও থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম আটকে রয়েছে।
ফল আটকে থাকা শিক্ষার্থী এইচ এম আরাফাত বলেন, বিভাগে সেশনজটের কারণে এমনিতেই আমাদের অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করতে অনেকদিন লেগেছে। তাছাড়া ব্যাচের অন্যরা প্রায় দুই বছর আগে মাস্টার্স শেষ করলেও আমরা এখনো রেজাল্ট পাচ্ছি না। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী বিদেশে মাস্টার্স করছে।
তার হয়তো এই ফল না হলেও চলবে, কিন্তু আমাদের তো প্রয়োজন। আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে, এ সময় তো আর ফিরে পাবো না। একজনের কারণে আমরা আটকে থাকবো এমন কোনো নিয়ম হতে পারে না।
আরাফাত আরো বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভাইভা নিলেও আমাদের পুরনো নিয়মে আটকে রাখা হচ্ছে। মাস্টার্স ছাড়া আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারছি না। চাকরির জন্যও আবেদন করতে পারছি না। একজন শিক্ষার্থীর কারণে আমাদের এমন ভোগান্তিতে ফেলতে পারে না প্রশাসন।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সজীব আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করেছি। প্রশাসনকেও জানিয়েছি। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সশরীরে ভাইভা দিতে হবে। একজন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ‘বিভাগ থেকেই ফাইল পাঠাতে দেরি করেছে। তবে বিষয়টি উপাচার্যকে জানানো হয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত জানাবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন