ঢাকা    শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

গৃহকর্ত্রী হত্যা মামলায় গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড


প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

গৃহকর্ত্রী হত্যা মামলায় গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক মো. হৃদয় বেপারী ওরফে মো. হৃদয় মিঞাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ -৩ এর বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী  অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ভিকটিমের ভাই মো. আল মঞ্জিল বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন ডিবি গুলশান জোনের সাব-ইনস্পেক্টর মো. রিপন উদ্দিন। তদন্তের সময় সিসিটিভি ফুটেজ, আসামির স্বীকারোক্তি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, আসামি হৃদয় অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল টাকা হেরে যায়। জুয়ার দেনা মেটাতে ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশে ঘটনার দিন বিকেলে আফরোজাকে একা পেয়ে নিজ হাতে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে সে।

পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাটির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৯ ইঞ্চি লম্বা রক্তমাখা চাকু, লুণ্ঠিত ২২.০৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, রক্তমাখা টিস্যু পেপার ও লুণ্ঠিত ৬০০ টাকাসহ ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করেন।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. কে এম মঈন উদ্দীনের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের ডিএনএ রিপোর্টেও আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হয়। বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়েও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একজন নিরপরাধ নারীকে অত্যন্ত বর্বরোচিত ও ঠাণ্ডা মাথায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


গৃহকর্ত্রী হত্যা মামলায় গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক মো. হৃদয় বেপারী ওরফে মো. হৃদয় মিঞাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ -৩ এর বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী  অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ভিকটিমের ভাই মো. আল মঞ্জিল বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন ডিবি গুলশান জোনের সাব-ইনস্পেক্টর মো. রিপন উদ্দিন। তদন্তের সময় সিসিটিভি ফুটেজ, আসামির স্বীকারোক্তি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, আসামি হৃদয় অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল টাকা হেরে যায়। জুয়ার দেনা মেটাতে ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশে ঘটনার দিন বিকেলে আফরোজাকে একা পেয়ে নিজ হাতে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে সে।

পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাটির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৯ ইঞ্চি লম্বা রক্তমাখা চাকু, লুণ্ঠিত ২২.০৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, রক্তমাখা টিস্যু পেপার ও লুণ্ঠিত ৬০০ টাকাসহ ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করেন।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. কে এম মঈন উদ্দীনের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের ডিএনএ রিপোর্টেও আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হয়। বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়েও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একজন নিরপরাধ নারীকে অত্যন্ত বর্বরোচিত ও ঠাণ্ডা মাথায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত