ঢাকা    শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

সাংবাদিক ও পুলিশকে যে কথা বললেই হতে পারে বিপদ


প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সাংবাদিক ও পুলিশকে যে কথা বললেই হতে পারে বিপদ

ইউসুফ আলী প্রধান: সাংবাদিক ও পুলিশের সাথে কথা বলার সময় অসতর্কতা অনেক সময় আইনি বা সামাজিক বিপত্তি ডেকে আনতে পারে।

শব্দচয়নে সতর্কতা: সাংবাদিক ও পুলিশের মুখোমুখি যখন হবেন- 
গণতান্ত্রিক সমাজে পুলিশ ও সাংবাদিক উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। একজন নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব, আর সত্য প্রকাশ করে জনমত গঠন করা সাংবাদিকের কাজ। তবে এই দুই পেশাজীবীর মুখোমুখি হওয়ার সময় অসতর্ক কথাবার্তা বা রাগের মাথায় বলা কোনো উক্তি অনেক সময় সাধারণ মানুষের জন্য চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পুলিশের সামনে যা বলা ঝুঁকিপূর্ণ:-

পুলিশের সাথে কথা বলার সময় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে। 
স্বীকারোক্তিমূলক মন্তব্য: কোনো অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এমন কোনো অস্পষ্ট কথা বলা উচিত নয়। কারণ, পুলিশের কাছে দেওয়া আপনার ছোট একটি মন্তব্যও ভবিষ্যতে আদালতে আপনার বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

উত্তেজিত হয়ে দুর্ব্যবহার: কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়া বা ভয় দেখানো (যেমন: 'আমার হাত অনেক লম্বা' বা চাকরি খেয়ে দেব') আইনিভাবে আপনার অবস্থান দুর্বল করে দেয়। এটি 'সরকারি কাজে বাধা প্রদান' হিসেবে গণ্য হতে পারে।

ভুল তথ্য প্রদান: নিজের পরিচয় বা ঘটনা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিলে পরবর্তীতে 'তথ্য গোপনের' অভিযোগে ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাংবাদিকের সামনে যা বলা ঝুঁকিপূর্ণ:-

সাংবাদিকদের পেশাই হলো তথ্য সংগ্রহ করা। তাই তাদের মাইক্রোফোনের সামনে কিছু বলার আগে পরিণাম ভাবা উচিত:-

অপ্রমাণিত অভিযোগ: কারো বিরুদ্ধে হুট করে কোনো গুরুতর অভিযোগ আনা মানহানির মামলার কারণ হতে পারে। মাইক্রোফোনের সামনে উত্তেজনায় মুখ ফসকে কিছু বলে ফেললে সেটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা পরে সংশোধন করা প্রায় অসম্ভব।

অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত তথ্য: নিজের বা অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হয় এমন তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
অফ দ্য রেকর্ড বিভ্রাট: অনেকেই মনে করেন 'এটি প্রকাশ করবেন না' বলে সাংবাদিককে কিছু বললে তা গোপন থাকবে। কিন্তু সবসময় এটি কাজ নাও করতে পারে। তাই যা প্রকাশযোগ্য নয়, তা না বলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সতর্কবার্তা থাকা: আইন ও গণমাধ্যম উভয় ক্ষেত্রেই আপনার প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত মূল্যবান। তাই কোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলার আগে (শান্ত) থাকা এবং প্রয়োজনে আইনি পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া শ্রেয়।

দুজনের কাছ থেকে ভালো থাকবেন:-বিপদ এড়াতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো সংক্ষিপ্ত ও সত্য কথা বলা। অপ্রাসঙ্গিক কথা যত কম বলবেন, নিজেকে নিরাপদ রাখার সম্ভাবনা তত বাড়বে। মনে রাখবেন, একটি ভুল শব্দ আপনার জীবন বা সম্মানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


সাংবাদিক ও পুলিশকে যে কথা বললেই হতে পারে বিপদ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইউসুফ আলী প্রধান: সাংবাদিক ও পুলিশের সাথে কথা বলার সময় অসতর্কতা অনেক সময় আইনি বা সামাজিক বিপত্তি ডেকে আনতে পারে।

শব্দচয়নে সতর্কতা: সাংবাদিক ও পুলিশের মুখোমুখি যখন হবেন- 
গণতান্ত্রিক সমাজে পুলিশ ও সাংবাদিক উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। একজন নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব, আর সত্য প্রকাশ করে জনমত গঠন করা সাংবাদিকের কাজ। তবে এই দুই পেশাজীবীর মুখোমুখি হওয়ার সময় অসতর্ক কথাবার্তা বা রাগের মাথায় বলা কোনো উক্তি অনেক সময় সাধারণ মানুষের জন্য চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পুলিশের সামনে যা বলা ঝুঁকিপূর্ণ:-

পুলিশের সাথে কথা বলার সময় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে। 
স্বীকারোক্তিমূলক মন্তব্য: কোনো অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এমন কোনো অস্পষ্ট কথা বলা উচিত নয়। কারণ, পুলিশের কাছে দেওয়া আপনার ছোট একটি মন্তব্যও ভবিষ্যতে আদালতে আপনার বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

উত্তেজিত হয়ে দুর্ব্যবহার: কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়া বা ভয় দেখানো (যেমন: 'আমার হাত অনেক লম্বা' বা চাকরি খেয়ে দেব') আইনিভাবে আপনার অবস্থান দুর্বল করে দেয়। এটি 'সরকারি কাজে বাধা প্রদান' হিসেবে গণ্য হতে পারে।

ভুল তথ্য প্রদান: নিজের পরিচয় বা ঘটনা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিলে পরবর্তীতে 'তথ্য গোপনের' অভিযোগে ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাংবাদিকের সামনে যা বলা ঝুঁকিপূর্ণ:-

সাংবাদিকদের পেশাই হলো তথ্য সংগ্রহ করা। তাই তাদের মাইক্রোফোনের সামনে কিছু বলার আগে পরিণাম ভাবা উচিত:-

অপ্রমাণিত অভিযোগ: কারো বিরুদ্ধে হুট করে কোনো গুরুতর অভিযোগ আনা মানহানির মামলার কারণ হতে পারে। মাইক্রোফোনের সামনে উত্তেজনায় মুখ ফসকে কিছু বলে ফেললে সেটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা পরে সংশোধন করা প্রায় অসম্ভব।

অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত তথ্য: নিজের বা অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হয় এমন তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
অফ দ্য রেকর্ড বিভ্রাট: অনেকেই মনে করেন 'এটি প্রকাশ করবেন না' বলে সাংবাদিককে কিছু বললে তা গোপন থাকবে। কিন্তু সবসময় এটি কাজ নাও করতে পারে। তাই যা প্রকাশযোগ্য নয়, তা না বলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সতর্কবার্তা থাকা: আইন ও গণমাধ্যম উভয় ক্ষেত্রেই আপনার প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত মূল্যবান। তাই কোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলার আগে (শান্ত) থাকা এবং প্রয়োজনে আইনি পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া শ্রেয়।

দুজনের কাছ থেকে ভালো থাকবেন:-বিপদ এড়াতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো সংক্ষিপ্ত ও সত্য কথা বলা। অপ্রাসঙ্গিক কথা যত কম বলবেন, নিজেকে নিরাপদ রাখার সম্ভাবনা তত বাড়বে। মনে রাখবেন, একটি ভুল শব্দ আপনার জীবন বা সম্মানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত