ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

ভারতজুড়ে কনডম সংকট: বড় শহরগুলোতে হাহাকার



ভারতজুড়ে কনডম সংকট: বড় শহরগুলোতে হাহাকার

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পৌঁছেছে ভারতীয়দের শয়নকক্ষে। দেশটির ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির কনডম উৎপাদন শিল্প বর্তমানে ভয়াবহ সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত এবং উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই খাতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। ব্যাপক ঘাটতি এবং খুচরা পর্যায়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পণ্যটির।

বছরে ৪০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে ভারত। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেডের মতো উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। কেবল এইচএলএল লাইফকেয়ারই দেশটিতে বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।

লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের বর্তমানে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে; যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্যাকেজিং উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও প্যাকেজিং সামগ্রীর সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং দামের অস্থিরতা উৎপাদন ও ক্রয়াদেশের সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কনডম উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা।

ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের কাছে এই পণ্য সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সাধারণত ‌‘ব্যাপক বাজারজাত-স্বল্প মুনাফা’ মডেল অনুসরণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যবসায়িক মডেল চরম চাপের মুখে পড়েছে। উৎপাদন খরচ বর্তমানে একেবারেই অনির্দিষ্ট হয়ে পড়েছে।

দেশটির এক আন্তঃমন্ত্রণালয় এক ব্রিফিংয়ে জানায়, জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলোর সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়া হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


ভারতজুড়ে কনডম সংকট: বড় শহরগুলোতে হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পৌঁছেছে ভারতীয়দের শয়নকক্ষে। দেশটির ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির কনডম উৎপাদন শিল্প বর্তমানে ভয়াবহ সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত এবং উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই খাতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। ব্যাপক ঘাটতি এবং খুচরা পর্যায়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পণ্যটির।

বছরে ৪০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে ভারত। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেডের মতো উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। কেবল এইচএলএল লাইফকেয়ারই দেশটিতে বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।

লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের বর্তমানে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে; যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্যাকেজিং উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও প্যাকেজিং সামগ্রীর সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং দামের অস্থিরতা উৎপাদন ও ক্রয়াদেশের সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কনডম উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা।

ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের কাছে এই পণ্য সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সাধারণত ‌‘ব্যাপক বাজারজাত-স্বল্প মুনাফা’ মডেল অনুসরণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যবসায়িক মডেল চরম চাপের মুখে পড়েছে। উৎপাদন খরচ বর্তমানে একেবারেই অনির্দিষ্ট হয়ে পড়েছে।

দেশটির এক আন্তঃমন্ত্রণালয় এক ব্রিফিংয়ে জানায়, জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলোর সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়া হতে পারে।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত