ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দুঃসংবাদ দিল মন্ত্রণালয়


প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দুঃসংবাদ দিল মন্ত্রণালয়

এমপিওভুক্তির জন্য চূড়ান্ত তালিকায় থাকা এক হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আপাতত সুখবর নেই। নতুন করে পুরো প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, ফলে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চূড়ান্ত করা তালিকা বাতিল করা হয়নি, তবে সেটি এখন নতুন আবেদনগুলোর সঙ্গে একত্রে যাচাই-বাছাই করা হবে। নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হবে, এরপর পুরোনো ও নতুন সব আবেদন একসঙ্গে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম এগোবে।

এর আগে জানুয়ারিতে অনলাইনে আবেদন নিয়ে মোট তিন হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১,৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে প্রায় ৬৭০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে হিসাব দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে এই তালিকা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ছিল তড়িঘড়ি এবং অস্বচ্ছ। মাত্র আট কর্মদিবসে হাজার হাজার আবেদন মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মতে বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসে, যেখানে প্রতিষ্ঠানভেদে লাখ লাখ টাকা আদান-প্রদানের কথা উঠে এসেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে তালিকাটি চূড়ান্ত অনুমোদন না দিয়ে পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় নীতিনির্ধারকরা। পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির পরিকল্পনাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির আশায় থাকা হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতি পেলেও আর্থিক সুবিধা না থাকায় শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এমপিওভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে নতুন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠলেও এখনই এমপিও সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দুঃসংবাদ দিল মন্ত্রণালয়

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

এমপিওভুক্তির জন্য চূড়ান্ত তালিকায় থাকা এক হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আপাতত সুখবর নেই। নতুন করে পুরো প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, ফলে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চূড়ান্ত করা তালিকা বাতিল করা হয়নি, তবে সেটি এখন নতুন আবেদনগুলোর সঙ্গে একত্রে যাচাই-বাছাই করা হবে। নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হবে, এরপর পুরোনো ও নতুন সব আবেদন একসঙ্গে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম এগোবে।

এর আগে জানুয়ারিতে অনলাইনে আবেদন নিয়ে মোট তিন হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১,৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে প্রায় ৬৭০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে হিসাব দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে এই তালিকা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ছিল তড়িঘড়ি এবং অস্বচ্ছ। মাত্র আট কর্মদিবসে হাজার হাজার আবেদন মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মতে বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসে, যেখানে প্রতিষ্ঠানভেদে লাখ লাখ টাকা আদান-প্রদানের কথা উঠে এসেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে তালিকাটি চূড়ান্ত অনুমোদন না দিয়ে পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় নীতিনির্ধারকরা। পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির পরিকল্পনাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির আশায় থাকা হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতি পেলেও আর্থিক সুবিধা না থাকায় শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এমপিওভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে নতুন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠলেও এখনই এমপিও সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত