ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

খুলনার দাকোপে

সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার



সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার

শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই খুলনার দাকোপ উপজেলায় সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টি এবং পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির জন্য এখন চারদিকে হাহাকার। উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ এক কলস নিরাপদ পানির জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিচ্ছেন, আবার কেউবা কলস নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন দীর্ঘ লাইনে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে প্রতি বছরের মতো এবারও তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি বিক্রির দোকানে প্রতিদিন মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ছে। অনেকে নিরুপায় হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বা ভ্যানে করে পানি সংগ্রহ করছেন। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্লান্ট এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক দেওয়া হলেও জনসংখ্যার তুলনায় সেগুলো অত্যন্ত অপ্রতুল।

দীর্ঘদিন ধরে দাকোপে গভীর নলকূপ সফল না হওয়ায় অগভীর নলকূপই ছিল প্রধান ভরসা। তবে অধিকাংশ নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত লবণ, আর্সেনিক ও আয়রন থাকায় সেগুলো পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পিএসএফ (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) এখন অকেজো। সুপেয় পানির অভাবে নিম্নবিত্ত মানুষ বাধ্য হয়ে পুকুর বা ডোবা-নালার অস্বাস্থ্যকর পানি পান করায় এলাকায় ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ভুটেমারি এলাকার গৃহবধূ কবিতা মন্ডল ও শিউলি মন্ডল জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রাস্তার পাশের ট্যাব থেকে এক কলস পানি সংগ্রহ করতে হয়। সকালে ও বিকেলে দুই-তিন কলস পানি দিয়ে সারা দিনের খাওয়া ও রান্নার কাজ চালাতে হয়। অনেক সময় পানি নিতে গিয়ে সংসারের অন্য কাজও ফেলে রাখতে হয়।

কালাবগী এলাকার রহমত ফকির বলেন, আগের পুকুরটি শুকিয়ে গেছে। এখন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নৌকাযোগে অন্য এলাকা থেকে অতি কষ্টে পানি আনতে হচ্ছে। আমতলা এলাকার শাহনাজ বেগম জানান, মাসে ৩০ টাকা দিয়ে এক দিন অন্তর চার কলস রিফাইন করা পানি পান। ট্যাব বন্ধ থাকলে পুকুরের পানি ফিটকিরি দিয়ে পান করতে হয়।

উপজেলা উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৬০১টি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলমান। তবে এসডিএফ-এর অধীনে নির্মিত ৭২টি আরও প্লান্ট সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে আছে। জেলা পরিষদের কিছু পুকুর আছে যেগুলো আইনি জটিলতার কারনে সাধারণ মানুষ সুফলভোগ করতে পারছেনা।

তিনি আরও আশার কথা শুনিয়ে বলেন, সম্প্রতি দাকোপের বিভিন্ন ইউনিয়নে কিছু গভীর নলকূপ সফল হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় অধিক গভীরতায় ‘টেস্ট টিউবওয়েল’ স্থাপন করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এছাড়া চাহিদা মেটাতে আরও অধিক ট্যাংক বরাদ্দ প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই খুলনার দাকোপ উপজেলায় সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টি এবং পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির জন্য এখন চারদিকে হাহাকার। উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ এক কলস নিরাপদ পানির জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিচ্ছেন, আবার কেউবা কলস নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন দীর্ঘ লাইনে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে প্রতি বছরের মতো এবারও তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি বিক্রির দোকানে প্রতিদিন মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ছে। অনেকে নিরুপায় হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বা ভ্যানে করে পানি সংগ্রহ করছেন। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্লান্ট এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক দেওয়া হলেও জনসংখ্যার তুলনায় সেগুলো অত্যন্ত অপ্রতুল।

দীর্ঘদিন ধরে দাকোপে গভীর নলকূপ সফল না হওয়ায় অগভীর নলকূপই ছিল প্রধান ভরসা। তবে অধিকাংশ নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত লবণ, আর্সেনিক ও আয়রন থাকায় সেগুলো পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পিএসএফ (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) এখন অকেজো। সুপেয় পানির অভাবে নিম্নবিত্ত মানুষ বাধ্য হয়ে পুকুর বা ডোবা-নালার অস্বাস্থ্যকর পানি পান করায় এলাকায় ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ভুটেমারি এলাকার গৃহবধূ কবিতা মন্ডল ও শিউলি মন্ডল জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রাস্তার পাশের ট্যাব থেকে এক কলস পানি সংগ্রহ করতে হয়। সকালে ও বিকেলে দুই-তিন কলস পানি দিয়ে সারা দিনের খাওয়া ও রান্নার কাজ চালাতে হয়। অনেক সময় পানি নিতে গিয়ে সংসারের অন্য কাজও ফেলে রাখতে হয়।

কালাবগী এলাকার রহমত ফকির বলেন, আগের পুকুরটি শুকিয়ে গেছে। এখন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নৌকাযোগে অন্য এলাকা থেকে অতি কষ্টে পানি আনতে হচ্ছে। আমতলা এলাকার শাহনাজ বেগম জানান, মাসে ৩০ টাকা দিয়ে এক দিন অন্তর চার কলস রিফাইন করা পানি পান। ট্যাব বন্ধ থাকলে পুকুরের পানি ফিটকিরি দিয়ে পান করতে হয়।

উপজেলা উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৬০১টি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলমান। তবে এসডিএফ-এর অধীনে নির্মিত ৭২টি আরও প্লান্ট সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে আছে। জেলা পরিষদের কিছু পুকুর আছে যেগুলো আইনি জটিলতার কারনে সাধারণ মানুষ সুফলভোগ করতে পারছেনা।

তিনি আরও আশার কথা শুনিয়ে বলেন, সম্প্রতি দাকোপের বিভিন্ন ইউনিয়নে কিছু গভীর নলকূপ সফল হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় অধিক গভীরতায় ‘টেস্ট টিউবওয়েল’ স্থাপন করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এছাড়া চাহিদা মেটাতে আরও অধিক ট্যাংক বরাদ্দ প্রয়োজন।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত