ঢাকা    সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

দাকোপে

তরমুজ চাষে বিপর্যয়: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় শঙ্কা



তরমুজ চাষে বিপর্যয়: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় শঙ্কা

খুলনার দাকোপের লোনা মাটির ‘সবুজ সোনা’ খ্যাত তরমুজ চাষিদের চোখে এখন জল। মৌসুমের শুরু থেকে একের পর এক প্রতিকূলতায় এবার লোকসানের মুখে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক। অসময়ের বৃষ্টি, ভেজাল বীজের প্রকোপ এবং বর্তমানে বাজারের নিম্নমুখী দামের সাথে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়ার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এই জনপদের চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর দাকোপ উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিলো। ফলন মোটামুটি ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না থাকা এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের কারণে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 

উপজেলার হরিনটানা এলাকার কৃষক প্রান্ত গাইন আক্ষেপ করে বলেন, "প্রথমে বৃষ্টিতে ক্ষেতের ক্ষতি হলো, তার ওপর বীজেও ছিল ভেজাল। এখন বাজারে দাম নেই, অথচ ট্রাক ভাড়া গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ। তরমুজ বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি দেওয়াই দায় হয়ে পড়েছে।"

একই অবস্থা ধোপাধী এলাকার কৃষক মুকুন্দ মন্ডলের। তিনি ৩০ বিঘা জমিতে আবাদ করে এখন পর্যন্ত ১৬ বিঘা বিক্রি করেছেন ৭ লাখ টাকায়, যা তার উৎপাদন খরচের তুলনায় খুবই নগণ্য। পশ্চিম বাজুয়া এলাকার কৃষক দেবপ্রসাদ মন্ডলের মতে, পাইকাররা যে দাম বলছেন তাতে খরচের অর্ধেক টাকাও উঠবে না। ঋণের চাপে অনেক চাষি এখন এলাকা ছাড়ার কথা ভাবছেন।

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ থেকে আসা পাইকাররা জানিয়েছেন, গত বছর যে ট্রাক ভাড়া ছিল ৩২ হাজার টাকা, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে তরমুজের দামে। পাইকার ব্যাপারী তোকিজ উদ্দিন বলেন, "গাড়ি ভাড়াতেই যদি সব টাকা চলে যায়, তবে কৃষককে দাম দেব কীভাবে?" 

অন্যদিকে স্থানীয় ফড়িয়া ও বাইরের পাইকারদের সিন্ডিকেটের কারণেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, “এ বছর দাকোপ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে। ফলে প্রায় ৭০% কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, "বারবার ক্ষতির মুখে পড়া কৃষকদের আমরা অন্য ফসলের দিকে আগ্রহী করার চেষ্টা করছি।"

কৃষিবিদদের মতে, সরকারিভাবে তরমুজ সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপন এবং বাজার তদারকি জোরদার না করলে আগামীতে কৃষকরা এই লাভজনক ফসল চাষে বিমুখ হতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


তরমুজ চাষে বিপর্যয়: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

খুলনার দাকোপের লোনা মাটির ‘সবুজ সোনা’ খ্যাত তরমুজ চাষিদের চোখে এখন জল। মৌসুমের শুরু থেকে একের পর এক প্রতিকূলতায় এবার লোকসানের মুখে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক। অসময়ের বৃষ্টি, ভেজাল বীজের প্রকোপ এবং বর্তমানে বাজারের নিম্নমুখী দামের সাথে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়ার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এই জনপদের চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর দাকোপ উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিলো। ফলন মোটামুটি ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না থাকা এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের কারণে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 

উপজেলার হরিনটানা এলাকার কৃষক প্রান্ত গাইন আক্ষেপ করে বলেন, "প্রথমে বৃষ্টিতে ক্ষেতের ক্ষতি হলো, তার ওপর বীজেও ছিল ভেজাল। এখন বাজারে দাম নেই, অথচ ট্রাক ভাড়া গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ। তরমুজ বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি দেওয়াই দায় হয়ে পড়েছে।"

একই অবস্থা ধোপাধী এলাকার কৃষক মুকুন্দ মন্ডলের। তিনি ৩০ বিঘা জমিতে আবাদ করে এখন পর্যন্ত ১৬ বিঘা বিক্রি করেছেন ৭ লাখ টাকায়, যা তার উৎপাদন খরচের তুলনায় খুবই নগণ্য। পশ্চিম বাজুয়া এলাকার কৃষক দেবপ্রসাদ মন্ডলের মতে, পাইকাররা যে দাম বলছেন তাতে খরচের অর্ধেক টাকাও উঠবে না। ঋণের চাপে অনেক চাষি এখন এলাকা ছাড়ার কথা ভাবছেন।

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ থেকে আসা পাইকাররা জানিয়েছেন, গত বছর যে ট্রাক ভাড়া ছিল ৩২ হাজার টাকা, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে তরমুজের দামে। পাইকার ব্যাপারী তোকিজ উদ্দিন বলেন, "গাড়ি ভাড়াতেই যদি সব টাকা চলে যায়, তবে কৃষককে দাম দেব কীভাবে?" 

অন্যদিকে স্থানীয় ফড়িয়া ও বাইরের পাইকারদের সিন্ডিকেটের কারণেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, “এ বছর দাকোপ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে। ফলে প্রায় ৭০% কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, "বারবার ক্ষতির মুখে পড়া কৃষকদের আমরা অন্য ফসলের দিকে আগ্রহী করার চেষ্টা করছি।"

কৃষিবিদদের মতে, সরকারিভাবে তরমুজ সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপন এবং বাজার তদারকি জোরদার না করলে আগামীতে কৃষকরা এই লাভজনক ফসল চাষে বিমুখ হতে পারেন।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত