ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

বিদেশে স্বপ্ন, দেশে ঋণ: অভিবাসন ব্যয়ে নিঃস্ব শ্রমিকরা


প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বিদেশে স্বপ্ন, দেশে ঋণ: অভিবাসন ব্যয়ে নিঃস্ব শ্রমিকরা
ফাইল ছবি

বিদেশে কাজের আশায় প্রতি বছর হাজারো বাংলাদেশি পাড়ি জমালেও বাস্তবে সেই স্বপ্ন অনেকের জন্য হয়ে উঠছে দুঃসহ অভিজ্ঞতা। সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ খরচ করে বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অধিকাংশ শ্রমিক। ফলে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেও অনেকের ২ থেকে ৩ বছর সময় লেগে যাচ্ছে শুধু খরচের টাকা তুলতে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য বা মালয়েশিয়ায় যেতে সরকার নির্ধারিত ব্যয় দেড় লাখ টাকার মধ্যে থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকদের খরচ হচ্ছে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা। কুয়েতে যেতে ব্যয় প্রায় ৯ লাখ, সিঙ্গাপুরে ১৪ লাখ, জাপানে ১২ লাখ এবং ইতালিতে ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে অনেকেই ঋণ নিচ্ছেন, জমি বিক্রি করছেন বা ধারদেনায় জড়িয়ে পড়ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দালালচক্র ও সিন্ডিকেটনির্ভর নিয়োগ প্রক্রিয়াই এই অতিরিক্ত ব্যয়ের মূল কারণ। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সীমিত ভূমিকার সুযোগ নিয়ে দালালরা শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। বিদেশে যাওয়ার পরও শেষ হচ্ছে না দুর্ভোগ। অনেকেই ভিসা বা আকামা জটিলতা, চুক্তি অনুযায়ী কাজ ও বেতন না পাওয়া, এমনকি আইনি সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছেন।

প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক শ্রমিক খালি হাতে দেশে ফিরছেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিনই এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কেউ ক্ষোভে পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলছেন, কেউ আবার বিদেশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিদেশে গিয়ে কাজ না পেয়ে বা বেতন না পেয়ে কারাবাসের অভিজ্ঞতাও যুক্ত হচ্ছে অনেকের জীবনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় কয়েকগুণ বেশি, যা অস্বাভাবিক বৈষম্য তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে অভিবাসন খাতে স্বচ্ছতা, দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি তদারকি জোরদার করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প ব্যয়ে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা না গেলে এই খাতের সংকট আরও বাড়বে। আর এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে দেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকেই, যাদের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার ও ভবিষ্যতের আশা।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


বিদেশে স্বপ্ন, দেশে ঋণ: অভিবাসন ব্যয়ে নিঃস্ব শ্রমিকরা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

বিদেশে কাজের আশায় প্রতি বছর হাজারো বাংলাদেশি পাড়ি জমালেও বাস্তবে সেই স্বপ্ন অনেকের জন্য হয়ে উঠছে দুঃসহ অভিজ্ঞতা। সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ খরচ করে বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অধিকাংশ শ্রমিক। ফলে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেও অনেকের ২ থেকে ৩ বছর সময় লেগে যাচ্ছে শুধু খরচের টাকা তুলতে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য বা মালয়েশিয়ায় যেতে সরকার নির্ধারিত ব্যয় দেড় লাখ টাকার মধ্যে থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকদের খরচ হচ্ছে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা। কুয়েতে যেতে ব্যয় প্রায় ৯ লাখ, সিঙ্গাপুরে ১৪ লাখ, জাপানে ১২ লাখ এবং ইতালিতে ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে অনেকেই ঋণ নিচ্ছেন, জমি বিক্রি করছেন বা ধারদেনায় জড়িয়ে পড়ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দালালচক্র ও সিন্ডিকেটনির্ভর নিয়োগ প্রক্রিয়াই এই অতিরিক্ত ব্যয়ের মূল কারণ। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সীমিত ভূমিকার সুযোগ নিয়ে দালালরা শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। বিদেশে যাওয়ার পরও শেষ হচ্ছে না দুর্ভোগ। অনেকেই ভিসা বা আকামা জটিলতা, চুক্তি অনুযায়ী কাজ ও বেতন না পাওয়া, এমনকি আইনি সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছেন।

প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক শ্রমিক খালি হাতে দেশে ফিরছেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিনই এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কেউ ক্ষোভে পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলছেন, কেউ আবার বিদেশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিদেশে গিয়ে কাজ না পেয়ে বা বেতন না পেয়ে কারাবাসের অভিজ্ঞতাও যুক্ত হচ্ছে অনেকের জীবনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় কয়েকগুণ বেশি, যা অস্বাভাবিক বৈষম্য তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে অভিবাসন খাতে স্বচ্ছতা, দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি তদারকি জোরদার করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প ব্যয়ে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা না গেলে এই খাতের সংকট আরও বাড়বে। আর এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে দেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকেই, যাদের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার ও ভবিষ্যতের আশা।



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত