ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা ‘জুলাই গ্রাফিতি’ দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণের লক্ষ্যে পুনরায় রং করা ও পুনর্লিখন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাফিতির মূল বৈশিষ্ট্য, চেতনা ও তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রেখে ৩ আগস্ট পর্যন্ত উপাচার্য ভবন থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। এই কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসনের স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে। জনমনে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের স্মৃতি জাগিয়ে রাখতে গ্রাফিতিগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, সে সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশের তরুণসমাজ ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী হামলা চালায়। অন্যায়ের প্রতিবাদে মানুষ সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নেয়।
উপাচার্য আরো বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে সহস্রাধিক নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেন। সে সময় দেশপ্রেমিক ছাত্র-ছাত্রীরা দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতির মাধ্যমে জুলুম, নির্যাতন ও ক্ষোভের চিহ্ন এঁকেছিল, যা এখন দেশের জীবন্ত ইতিহাস হয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো থাকব না, কিন্তু বাংলাদেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকবে। এই গ্রাফিতির মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ সেই রক্তমাখা ভয়াল দিনগুলো চিরদিন স্মরণ করবে এবং জুলাইয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা অন্তরে ধারণ করবে।’
ভবিষ্যতে দেশে যেন আর ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানান উপাচার্য।
একই সঙ্গে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বর্তমান সরকারকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি। গ্রাফিতি অঙ্কনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং এবং আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা ‘জুলাই গ্রাফিতি’ দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণের লক্ষ্যে পুনরায় রং করা ও পুনর্লিখন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাফিতির মূল বৈশিষ্ট্য, চেতনা ও তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রেখে ৩ আগস্ট পর্যন্ত উপাচার্য ভবন থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। এই কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসনের স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে। জনমনে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের স্মৃতি জাগিয়ে রাখতে গ্রাফিতিগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, সে সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশের তরুণসমাজ ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী হামলা চালায়। অন্যায়ের প্রতিবাদে মানুষ সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নেয়।
উপাচার্য আরো বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে সহস্রাধিক নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেন। সে সময় দেশপ্রেমিক ছাত্র-ছাত্রীরা দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতির মাধ্যমে জুলুম, নির্যাতন ও ক্ষোভের চিহ্ন এঁকেছিল, যা এখন দেশের জীবন্ত ইতিহাস হয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো থাকব না, কিন্তু বাংলাদেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকবে। এই গ্রাফিতির মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ সেই রক্তমাখা ভয়াল দিনগুলো চিরদিন স্মরণ করবে এবং জুলাইয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা অন্তরে ধারণ করবে।’
ভবিষ্যতে দেশে যেন আর ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানান উপাচার্য।
একই সঙ্গে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বর্তমান সরকারকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি। গ্রাফিতি অঙ্কনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং এবং আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন