ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

নওগাঁর বদলগাছীতে

যুবদল নেতার কব্জি কাটার অভিযোগে, গ্রেপ্তার ২



যুবদল নেতার কব্জি কাটার অভিযোগে, গ্রেপ্তার ২

নওগাঁর বদলগাছীতে জমির আইল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে ইউনিয়ন যুবদল নেতার বাম হাতের কব্জি কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত ওই নেতা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত হাসান রমন (৪২) উপজেলার জালালপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি মথুরাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিজানুর রহমান ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং আমেনা বেগম একই ওয়ার্ডের সভানেত্রী।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে জমির আইল কাটা নিয়ে হাসান রমনের সঙ্গে মিজানুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় মিজানুর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে হাসান রমনের বাম হাতে কোপ দিলে তাঁর কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁর মা বিউটি বেগমকেও এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়। বর্তমানে মা-ছেলে দুজনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত হাসান রমনের বাবা ও মামলার বাদী দুদু মিয়া বলেন, "আমার ছেলে হাসানের সঙ্গে জমির আইল কাটা নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম ধারালো হাসুয়া দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। খবর পেয়ে আমার স্ত্রী বিউটি বেগম ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও ধারালো হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু বলেন, অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান দাবি করেন, "আমার জমির বড় আইল হাসান কেটে ফেলেছে। এ নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। পরে তারা ছয়-সাতজন মিলে আমার বাড়িতে হামলা করে। আমার হাতে ঘাস কাটার হাসুয়া ছিল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সেটির আঘাতে হাসানের হাতের কব্জি কেটে যায়।"

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, "এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান দুই আসামি মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।"

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


যুবদল নেতার কব্জি কাটার অভিযোগে, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর বদলগাছীতে জমির আইল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে ইউনিয়ন যুবদল নেতার বাম হাতের কব্জি কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত ওই নেতা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত হাসান রমন (৪২) উপজেলার জালালপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি মথুরাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিজানুর রহমান ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং আমেনা বেগম একই ওয়ার্ডের সভানেত্রী।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে জমির আইল কাটা নিয়ে হাসান রমনের সঙ্গে মিজানুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় মিজানুর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে হাসান রমনের বাম হাতে কোপ দিলে তাঁর কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁর মা বিউটি বেগমকেও এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়। বর্তমানে মা-ছেলে দুজনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত হাসান রমনের বাবা ও মামলার বাদী দুদু মিয়া বলেন, "আমার ছেলে হাসানের সঙ্গে জমির আইল কাটা নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম ধারালো হাসুয়া দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। খবর পেয়ে আমার স্ত্রী বিউটি বেগম ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও ধারালো হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু বলেন, অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান দাবি করেন, "আমার জমির বড় আইল হাসান কেটে ফেলেছে। এ নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। পরে তারা ছয়-সাতজন মিলে আমার বাড়িতে হামলা করে। আমার হাতে ঘাস কাটার হাসুয়া ছিল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সেটির আঘাতে হাসানের হাতের কব্জি কেটে যায়।"

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, "এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান দুই আসামি মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।"


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত