ঢাকা    রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাংকে ধরা খেলেন মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন!



ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাংকে ধরা খেলেন মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন!

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এক মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজারের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তার সতর্কতায় চেক যাচাইয়ের সময় স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। যদিও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে রবিবার (২ আগস্ট)। এরপর থেকেই উপজেলাজুড়ে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ব্যাংক ও উপজেলা মডেল মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজ ৬০ হাজার টাকার একটি চেক নিয়ে সোনালী ব্যাংকের বদলগাছী শাখায় টাকা উত্তোলনের জন্য যান। চেকটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এবং মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষর ছিল।

ব্যাংক সূত্র বলছে, কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর আলম বদলগাছী থেকে অন্যত্র বদলি হওয়ায় তাঁর স্বাক্ষর দেখে ব্যাংক ব্যবস্থাপক নূর আলমের সন্দেহ হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহফুজ দাবি করেন, বদলির আগে জাহাঙ্গীর আলম চেকটিতে স্বাক্ষর করে গেছেন।

সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনির সঙ্গে যোগাযোগ করে চেকটি যাচাই করে। যাচাই শেষে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে চেকটির বিপরীতে অর্থ উত্তোলন স্থগিত করা হয়।

রবিবার দুপুরে মডেল মসজিদে গিয়ে অভিযুক্ত মুয়াজ্জিন মাহফুজকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানতে ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মডেল মসজিদের বর্তমান ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আল আমিন সরকার বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ঘটনাটি শুনেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সোনালী ব্যাংকের বদলগাছী শাখার ব্যবস্থাপক নূর আলম প্রথম আলোকে বলেন, চেকটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যাচাই শেষে চেকের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর জালের বিষয়টি ধরা পড়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্য, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাংকে ধরা খেলেন মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন!

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এক মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজারের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তার সতর্কতায় চেক যাচাইয়ের সময় স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। যদিও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে রবিবার (২ আগস্ট)। এরপর থেকেই উপজেলাজুড়ে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ব্যাংক ও উপজেলা মডেল মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজ ৬০ হাজার টাকার একটি চেক নিয়ে সোনালী ব্যাংকের বদলগাছী শাখায় টাকা উত্তোলনের জন্য যান। চেকটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এবং মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষর ছিল।

ব্যাংক সূত্র বলছে, কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর আলম বদলগাছী থেকে অন্যত্র বদলি হওয়ায় তাঁর স্বাক্ষর দেখে ব্যাংক ব্যবস্থাপক নূর আলমের সন্দেহ হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহফুজ দাবি করেন, বদলির আগে জাহাঙ্গীর আলম চেকটিতে স্বাক্ষর করে গেছেন।

সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনির সঙ্গে যোগাযোগ করে চেকটি যাচাই করে। যাচাই শেষে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে চেকটির বিপরীতে অর্থ উত্তোলন স্থগিত করা হয়।

রবিবার দুপুরে মডেল মসজিদে গিয়ে অভিযুক্ত মুয়াজ্জিন মাহফুজকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানতে ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মডেল মসজিদের বর্তমান ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আল আমিন সরকার বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ঘটনাটি শুনেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সোনালী ব্যাংকের বদলগাছী শাখার ব্যবস্থাপক নূর আলম প্রথম আলোকে বলেন, চেকটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যাচাই শেষে চেকের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর জালের বিষয়টি ধরা পড়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্য, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত