ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

ন্যাটোর আদলে সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি


প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ন্যাটোর আদলে সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

অনলাইন ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা ও যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও রিয়াদ। ন্যাটোর আদলে গঠিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' সক্রিয় করার মাধ্যমে জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার নীতি কার্যকর হলো।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

রিয়াদে তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এক বিবৃতিতে জানান, যেকোনো ধরনের হামলা ও এর জন্য দায়ীদের প্রতিহত করতে যৌথ প্রতিরোধমূলক সামরিক ব্যবস্থা জোরদারে একমত হয়েছে জোটভুক্ত দেশগুলো। গত আগস্টে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সক্রিয় করা হলো।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অংশীদার তিনটি দেশই সৌদি আরবে অনুমোদিত সামরিক বাহিনী ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সরবরাহ করবে এবং তাদের দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করবে। প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনী লোহিত সাগরের মোখা বন্দর নগরী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদে প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযান শুরুর পরপরই এই ঘোষণা আসে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ১০০টি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে সরাসরি আকাশপথে সহায়তা দিচ্ছে। বিপরীতে ইয়েমেনের হুথিরা রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও উপকূলীয় শহর রাবিগের আরামকো শোধনাগারে আঘাত হানার দাবি করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে এই ত্রিদেশীয় জোট অত্যন্ত শক্তিশালী। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬-এর তথ্যানুযায়ী, জোটভুক্ত এই তিন দেশের সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সেনা, ৩ হাজার ৪০০ সামরিক বিমান, ৬ হাজার ট্যাংক এবং ৩৪০টির বেশি নৌযুদ্ধজাহাজ রয়েছে।

গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের ফেলো আব্দুল আজিজ আলঘাশিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুথিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করার এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা নির্ভরতার বাইরে একটি নতুন শক্তিশালী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর বাস্তব রূপ দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


ন্যাটোর আদলে সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

অনলাইন ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা ও যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও রিয়াদ। ন্যাটোর আদলে গঠিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' সক্রিয় করার মাধ্যমে জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার নীতি কার্যকর হলো।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

রিয়াদে তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এক বিবৃতিতে জানান, যেকোনো ধরনের হামলা ও এর জন্য দায়ীদের প্রতিহত করতে যৌথ প্রতিরোধমূলক সামরিক ব্যবস্থা জোরদারে একমত হয়েছে জোটভুক্ত দেশগুলো। গত আগস্টে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সক্রিয় করা হলো।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অংশীদার তিনটি দেশই সৌদি আরবে অনুমোদিত সামরিক বাহিনী ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সরবরাহ করবে এবং তাদের দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করবে। প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনী লোহিত সাগরের মোখা বন্দর নগরী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদে প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযান শুরুর পরপরই এই ঘোষণা আসে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ১০০টি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে সরাসরি আকাশপথে সহায়তা দিচ্ছে। বিপরীতে ইয়েমেনের হুথিরা রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও উপকূলীয় শহর রাবিগের আরামকো শোধনাগারে আঘাত হানার দাবি করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে এই ত্রিদেশীয় জোট অত্যন্ত শক্তিশালী। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬-এর তথ্যানুযায়ী, জোটভুক্ত এই তিন দেশের সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সেনা, ৩ হাজার ৪০০ সামরিক বিমান, ৬ হাজার ট্যাংক এবং ৩৪০টির বেশি নৌযুদ্ধজাহাজ রয়েছে।

গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের ফেলো আব্দুল আজিজ আলঘাশিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুথিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করার এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা নির্ভরতার বাইরে একটি নতুন শক্তিশালী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর বাস্তব রূপ দিচ্ছে।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক মোহাম্মদ মহসীন প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত