ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা কামনা


প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা কামনা

বিশেষ প্রতিনিধি: রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা ও টোকিও। বাণিজ্যিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে এ চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করেছে।

জাপানের রাজধানী টোকিওতে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে বহুমুখী পণ্যের বাজারে প্রবেশ এবং জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানি উদ্যোক্তাদের পুঁজি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে জাপানের বাণিজ্যিক উপস্থিতি সম্প্রসারণে জেটরোর সক্রিয় ভূমিকার মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে অনুকূল পরিবেশ ও নতুন বাণিজ্য সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

শিল্পায়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে জাপানের সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সংহত করবে বলে আলোচনা করা হয়। অপরদিকে জেটরোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। বর্তমান সরকারের গৃহীত নানামুখী নীতির ফলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সুস্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করছে।

বৈঠক শেষে জেটরো প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে একটি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়া হয় এবং সুবিধাজনক সময়ে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা কামনা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশেষ প্রতিনিধি: রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা ও টোকিও। বাণিজ্যিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে এ চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করেছে।

জাপানের রাজধানী টোকিওতে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে বহুমুখী পণ্যের বাজারে প্রবেশ এবং জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানি উদ্যোক্তাদের পুঁজি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে জাপানের বাণিজ্যিক উপস্থিতি সম্প্রসারণে জেটরোর সক্রিয় ভূমিকার মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে অনুকূল পরিবেশ ও নতুন বাণিজ্য সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

শিল্পায়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে জাপানের সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সংহত করবে বলে আলোচনা করা হয়। অপরদিকে জেটরোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। বর্তমান সরকারের গৃহীত নানামুখী নীতির ফলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সুস্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করছে।

বৈঠক শেষে জেটরো প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে একটি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়া হয় এবং সুবিধাজনক সময়ে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক মোহাম্মদ মহসীন প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত