অনলাইন ডেস্ক: সমুদ্রমন্থনের হলাহল পান করে শিব যখন ‘নীলকণ্ঠ’ হন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তা হলো সিকোয়েস্ট্রেশন (Sequestration)। শরীরকে রক্ষা করতে লিভার যেমন বিষকে একীভূত করে, শিবও তেমনি বিষকে কণ্ঠে আবদ্ধ করে হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্ককে রক্ষা করেছেন। বিষক্রিয়ায় শরীর নীল হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সায়ানোসিস (Cyanosis)-এর সমতুল্য, যা তিনি যোগশক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন।
অমরত্ব ও কোষের পুনর্জন্ম: সাপের খোলস ত্যাগ বা একডিসিস (Ecdysis) মূলত ডিএনএ-র প্রান্তভাগে থাকা টেলোমেয়ার (Telomeres)-এর ক্ষয় রোধের প্রতীক। শিবের জরাহীন রূপ এবং সাপের এই পুনর্জন্মের ক্ষমতা কোষীয় স্তরে বার্ধক্য প্রতিরোধের (Anti-aging) বিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। টেলোমেরেজ এনজাইম যেমন কোষকে অমরত্ব দেয়, শিবের সাপের ভূষণও সেই নিরন্তর নবায়নের বার্তাবাহক।
আধুনিক চিকিৎসা ও নিউরোসায়েন্স: আধুনিক চিকিৎসায় সর্পবিষ থেকে ‘ক্যাপ্টোপ্রিল’-এর মতো জীবনদায়ী ওষুধ তৈরি হচ্ছে, যা ‘বিষস্য বিষমৌষধম’ তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে। আবার নিউরোসায়েন্সের ত্রি-মস্তিষ্ক (Triune Brain) তত্ত্ব অনুযায়ী, মস্তিষ্কের আদিম অংশ বা 'সরীসৃপ মস্তিষ্ক' (Reptilian Brain) ভয় ও আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করে। শিবের কণ্ঠে সাপের অবস্থান আসলে উচ্চতর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স দ্বারা আদিম প্রবৃত্তিকে জয় করার এক স্নায়বিক রূপক।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক: সমুদ্রমন্থনের হলাহল পান করে শিব যখন ‘নীলকণ্ঠ’ হন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তা হলো সিকোয়েস্ট্রেশন (Sequestration)। শরীরকে রক্ষা করতে লিভার যেমন বিষকে একীভূত করে, শিবও তেমনি বিষকে কণ্ঠে আবদ্ধ করে হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্ককে রক্ষা করেছেন। বিষক্রিয়ায় শরীর নীল হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সায়ানোসিস (Cyanosis)-এর সমতুল্য, যা তিনি যোগশক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন।
অমরত্ব ও কোষের পুনর্জন্ম: সাপের খোলস ত্যাগ বা একডিসিস (Ecdysis) মূলত ডিএনএ-র প্রান্তভাগে থাকা টেলোমেয়ার (Telomeres)-এর ক্ষয় রোধের প্রতীক। শিবের জরাহীন রূপ এবং সাপের এই পুনর্জন্মের ক্ষমতা কোষীয় স্তরে বার্ধক্য প্রতিরোধের (Anti-aging) বিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। টেলোমেরেজ এনজাইম যেমন কোষকে অমরত্ব দেয়, শিবের সাপের ভূষণও সেই নিরন্তর নবায়নের বার্তাবাহক।
আধুনিক চিকিৎসা ও নিউরোসায়েন্স: আধুনিক চিকিৎসায় সর্পবিষ থেকে ‘ক্যাপ্টোপ্রিল’-এর মতো জীবনদায়ী ওষুধ তৈরি হচ্ছে, যা ‘বিষস্য বিষমৌষধম’ তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে। আবার নিউরোসায়েন্সের ত্রি-মস্তিষ্ক (Triune Brain) তত্ত্ব অনুযায়ী, মস্তিষ্কের আদিম অংশ বা 'সরীসৃপ মস্তিষ্ক' (Reptilian Brain) ভয় ও আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করে। শিবের কণ্ঠে সাপের অবস্থান আসলে উচ্চতর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স দ্বারা আদিম প্রবৃত্তিকে জয় করার এক স্নায়বিক রূপক।

আপনার মতামত লিখুন