ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

শিবের মাথায় কেন সাপ থাকে, জানলে অবাক হবেন


প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শিবের মাথায় কেন সাপ থাকে, জানলে অবাক হবেন

অনলাইন ডেস্ক: সমুদ্রমন্থনের হলাহল পান করে শিব যখন ‘নীলকণ্ঠ’ হন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তা হলো সিকোয়েস্ট্রেশন (Sequestration)। শরীরকে রক্ষা করতে লিভার যেমন বিষকে একীভূত করে, শিবও তেমনি বিষকে কণ্ঠে আবদ্ধ করে হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্ককে রক্ষা করেছেন। বিষক্রিয়ায় শরীর নীল হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সায়ানোসিস (Cyanosis)-এর সমতুল্য, যা তিনি যোগশক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন।

অমরত্ব ও কোষের পুনর্জন্ম: সাপের খোলস ত্যাগ বা একডিসিস (Ecdysis) মূলত ডিএনএ-র প্রান্তভাগে থাকা টেলোমেয়ার (Telomeres)-এর ক্ষয় রোধের প্রতীক। শিবের জরাহীন রূপ এবং সাপের এই পুনর্জন্মের ক্ষমতা কোষীয় স্তরে বার্ধক্য প্রতিরোধের (Anti-aging) বিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। টেলোমেরেজ এনজাইম যেমন কোষকে অমরত্ব দেয়, শিবের সাপের ভূষণও সেই নিরন্তর নবায়নের বার্তাবাহক।

আধুনিক চিকিৎসা ও নিউরোসায়েন্স: আধুনিক চিকিৎসায় সর্পবিষ থেকে ‘ক্যাপ্টোপ্রিল’-এর মতো জীবনদায়ী ওষুধ তৈরি হচ্ছে, যা ‘বিষস্য বিষমৌষধম’ তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে। আবার নিউরোসায়েন্সের ত্রি-মস্তিষ্ক (Triune Brain) তত্ত্ব অনুযায়ী, মস্তিষ্কের আদিম অংশ বা 'সরীসৃপ মস্তিষ্ক' (Reptilian Brain) ভয় ও আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করে। শিবের কণ্ঠে সাপের অবস্থান আসলে উচ্চতর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স দ্বারা আদিম প্রবৃত্তিকে জয় করার এক স্নায়বিক রূপক।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


শিবের মাথায় কেন সাপ থাকে, জানলে অবাক হবেন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

অনলাইন ডেস্ক: সমুদ্রমন্থনের হলাহল পান করে শিব যখন ‘নীলকণ্ঠ’ হন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তা হলো সিকোয়েস্ট্রেশন (Sequestration)। শরীরকে রক্ষা করতে লিভার যেমন বিষকে একীভূত করে, শিবও তেমনি বিষকে কণ্ঠে আবদ্ধ করে হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্ককে রক্ষা করেছেন। বিষক্রিয়ায় শরীর নীল হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সায়ানোসিস (Cyanosis)-এর সমতুল্য, যা তিনি যোগশক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন।

অমরত্ব ও কোষের পুনর্জন্ম: সাপের খোলস ত্যাগ বা একডিসিস (Ecdysis) মূলত ডিএনএ-র প্রান্তভাগে থাকা টেলোমেয়ার (Telomeres)-এর ক্ষয় রোধের প্রতীক। শিবের জরাহীন রূপ এবং সাপের এই পুনর্জন্মের ক্ষমতা কোষীয় স্তরে বার্ধক্য প্রতিরোধের (Anti-aging) বিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। টেলোমেরেজ এনজাইম যেমন কোষকে অমরত্ব দেয়, শিবের সাপের ভূষণও সেই নিরন্তর নবায়নের বার্তাবাহক।

আধুনিক চিকিৎসা ও নিউরোসায়েন্স: আধুনিক চিকিৎসায় সর্পবিষ থেকে ‘ক্যাপ্টোপ্রিল’-এর মতো জীবনদায়ী ওষুধ তৈরি হচ্ছে, যা ‘বিষস্য বিষমৌষধম’ তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে। আবার নিউরোসায়েন্সের ত্রি-মস্তিষ্ক (Triune Brain) তত্ত্ব অনুযায়ী, মস্তিষ্কের আদিম অংশ বা 'সরীসৃপ মস্তিষ্ক' (Reptilian Brain) ভয় ও আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করে। শিবের কণ্ঠে সাপের অবস্থান আসলে উচ্চতর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স দ্বারা আদিম প্রবৃত্তিকে জয় করার এক স্নায়বিক রূপক।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত