দেশজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ঘাটতি এবং ঘন ঘন লোডশেডিং শিল্পখাতে এক ধরনের চাপ তৈরি করেছে, যা এখন উৎপাদন ও ব্যয়-দুই দিক থেকেই অর্থনীতিকে টানছে। গত দুই মাসে তৈরি পোশাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, ওষুধ, মৎস্য ও ভোগ্যপণ্য খাতে গড় উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ, আর একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, কুমিল্লা, খুলনা, মুন্সীগঞ্জসহ প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোর চিত্র বলছে, সংকট এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং বিস্তৃত ও গভীর।
চট্টগ্রাম, যেখানে দেশের বড় অংশের ইস্পাত ও পোশাক শিল্প কেন্দ্রিত, সেখানে ১ হাজার ৬৭৬টি কারখানার অধিকাংশই উৎপাদন হ্রাসের মুখে। ভারী শিল্পে উৎপাদন কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ, আর কিছু ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখা গেছে। একই প্রবণতা সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে, যেখানে পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানাগুলো বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম উৎপাদন করছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের ভালুকা অঞ্চলেও রপ্তানিমুখী শিল্পে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন কমেছে। খুলনায় হিমায়িত মৎস্য ও পাটজাত পণ্যের কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণের কাছাকাছি। মুন্সীগঞ্জের হিমাগার শিল্পও একই ধরনের চাপে রয়েছে, যেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জেনারেটর নির্ভরতা এখন বাধ্যতামূলক হয়ে উঠলেও ডিজেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পরিবহন ব্যয় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে রপ্তানি খাতেও প্রতিযোগিতা কমছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে না আনা গেলে ভারী শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ এসব খাত শুধু উৎপাদনই নয়, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের বড় অংশও নির্ভর করে এসব শিল্পের ওপর। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
দেশজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ঘাটতি এবং ঘন ঘন লোডশেডিং শিল্পখাতে এক ধরনের চাপ তৈরি করেছে, যা এখন উৎপাদন ও ব্যয়-দুই দিক থেকেই অর্থনীতিকে টানছে। গত দুই মাসে তৈরি পোশাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, ওষুধ, মৎস্য ও ভোগ্যপণ্য খাতে গড় উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ, আর একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, কুমিল্লা, খুলনা, মুন্সীগঞ্জসহ প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোর চিত্র বলছে, সংকট এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং বিস্তৃত ও গভীর।
চট্টগ্রাম, যেখানে দেশের বড় অংশের ইস্পাত ও পোশাক শিল্প কেন্দ্রিত, সেখানে ১ হাজার ৬৭৬টি কারখানার অধিকাংশই উৎপাদন হ্রাসের মুখে। ভারী শিল্পে উৎপাদন কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ, আর কিছু ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখা গেছে। একই প্রবণতা সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে, যেখানে পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানাগুলো বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম উৎপাদন করছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের ভালুকা অঞ্চলেও রপ্তানিমুখী শিল্পে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন কমেছে। খুলনায় হিমায়িত মৎস্য ও পাটজাত পণ্যের কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণের কাছাকাছি। মুন্সীগঞ্জের হিমাগার শিল্পও একই ধরনের চাপে রয়েছে, যেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জেনারেটর নির্ভরতা এখন বাধ্যতামূলক হয়ে উঠলেও ডিজেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পরিবহন ব্যয় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে রপ্তানি খাতেও প্রতিযোগিতা কমছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে না আনা গেলে ভারী শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ এসব খাত শুধু উৎপাদনই নয়, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের বড় অংশও নির্ভর করে এসব শিল্পের ওপর। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন