ঢাকা    শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

কর কাঠামোয় বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের চাপ


প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কর কাঠামোয় বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের চাপ
ছবি: এআই তৈরি

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে নতুন কর কাঠামোতে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে আয় না বাড়লেও আগের চেয়ে বেশি কর দিতে হবে—এমন বাস্তবতাই উঠে এসেছে নতুন হিসাব বিশ্লেষণে।

আগের অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তা বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর পরের আয়ের ওপর করহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামোতে করমুক্ত সীমার পরের ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ এবং পরবর্তী ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। আগে এই ধাপগুলোতে করহার ছিল যথাক্রমে ৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ।

এই পরিবর্তনের ফলে একই আয়ে করের বোঝা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। উদাহরণ হিসেবে, মাসে ৬০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া একজন কর্মীর বার্ষিক কর ১২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৪ হাজার ৫০০ টাকায়। ৭০ হাজার টাকা আয়কারীর কর বাড়ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। আর এক লাখ টাকা মাসিক আয়ে কর বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি।

এমনকি বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াতের সুযোগ থাকলেও প্রকৃত করের চাপ কমছে না। সর্বোচ্চ করছাড় পাওয়ার পরও এক লাখ টাকা আয়কারীকে আগের তুলনায় প্রায় ১১ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে, যা প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সূত্র বলছে, সরকার আপাতত করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। কারণ, এতে করজালের বাইরে মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং রাজস্ব আদায়ে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সরকারের ব্যয় মেটাতে কর আদায় বাড়ানো জরুরি বলেই এই অবস্থান।

তবে অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোও এই সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, কর কাঠামোয় এমন পরিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে, করমুক্ত সীমা বাড়ানোর ঘোষণার আড়ালে কার্যত করের বোঝা বেড়েছে—যা নতুন অর্থবছরে সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


কর কাঠামোয় বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের চাপ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে নতুন কর কাঠামোতে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে আয় না বাড়লেও আগের চেয়ে বেশি কর দিতে হবে—এমন বাস্তবতাই উঠে এসেছে নতুন হিসাব বিশ্লেষণে।

আগের অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তা বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর পরের আয়ের ওপর করহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামোতে করমুক্ত সীমার পরের ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ এবং পরবর্তী ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। আগে এই ধাপগুলোতে করহার ছিল যথাক্রমে ৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ।

এই পরিবর্তনের ফলে একই আয়ে করের বোঝা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। উদাহরণ হিসেবে, মাসে ৬০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া একজন কর্মীর বার্ষিক কর ১২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৪ হাজার ৫০০ টাকায়। ৭০ হাজার টাকা আয়কারীর কর বাড়ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। আর এক লাখ টাকা মাসিক আয়ে কর বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি।

এমনকি বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াতের সুযোগ থাকলেও প্রকৃত করের চাপ কমছে না। সর্বোচ্চ করছাড় পাওয়ার পরও এক লাখ টাকা আয়কারীকে আগের তুলনায় প্রায় ১১ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে, যা প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সূত্র বলছে, সরকার আপাতত করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না। কারণ, এতে করজালের বাইরে মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং রাজস্ব আদায়ে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সরকারের ব্যয় মেটাতে কর আদায় বাড়ানো জরুরি বলেই এই অবস্থান।

তবে অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোও এই সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, কর কাঠামোয় এমন পরিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে, করমুক্ত সীমা বাড়ানোর ঘোষণার আড়ালে কার্যত করের বোঝা বেড়েছে—যা নতুন অর্থবছরে সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত