ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

স্বর্ণবাজারে বড় ধস


প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

স্বর্ণবাজারে বড় ধস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং উচ্চ সুদের হার দীর্ঘদিন বজায় থাকার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের আচরণে পরিবর্তন এনেছে।

সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও এবার স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আগের মতো সুবিধা পায়নি। বরং শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং সুদের হার নিয়ে কড়াকড়ি অবস্থান স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করেছে। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায়।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, উচ্চ জ্বালানি মূল্য সরাসরি মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেয়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু রাখতে বাধ্য করতে পারে। ফলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে না—এমন প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে এর আকর্ষণ কমে যায়। স্বল্পমেয়াদে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণ থেকে সরে যেতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে ৪ হাজার ২০০ ডলারের আশপাশে একটি শক্তিশালী সমর্থনস্তর থাকতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভার, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

বিশ্ববাজারে এই পতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সাধারণত দেশীয় বাজারেও সমন্বয় করা হয়। ফলে শিগগিরই দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবারও মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


স্বর্ণবাজারে বড় ধস

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং উচ্চ সুদের হার দীর্ঘদিন বজায় থাকার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের আচরণে পরিবর্তন এনেছে।

সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও এবার স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আগের মতো সুবিধা পায়নি। বরং শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং সুদের হার নিয়ে কড়াকড়ি অবস্থান স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করেছে। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায়।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, উচ্চ জ্বালানি মূল্য সরাসরি মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেয়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু রাখতে বাধ্য করতে পারে। ফলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে না—এমন প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে এর আকর্ষণ কমে যায়। স্বল্পমেয়াদে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণ থেকে সরে যেতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে ৪ হাজার ২০০ ডলারের আশপাশে একটি শক্তিশালী সমর্থনস্তর থাকতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভার, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

বিশ্ববাজারে এই পতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সাধারণত দেশীয় বাজারেও সমন্বয় করা হয়। ফলে শিগগিরই দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবারও মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত