ঢাকা    বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

‘রক্ত ঝরলেও পদ ছাড়িনি’-বঙ্গভবনে যা ঘটেছে তা নিয়ে চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি


প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‘রক্ত ঝরলেও পদ ছাড়িনি’-বঙ্গভবনে যা ঘটেছে তা নিয়ে চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি

দেড় বছর ধরে নানা চাপ, ঘেরাও, অপসারণের উদ্যোগ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বঙ্গভবনে সময় কেটেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, অসাংবিধানিক উপায়ে তাঁকে সরানোর একাধিক উদ্যোগ হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়।

গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নেন কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে তাঁকে কেন্দ্র করে নানা চক্রান্ত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির চেষ্টা এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের অসংখ্য ছক ছিল, তবে তিনি সিদ্ধান্তে অবিচল থাকায় সেগুলো সফল হয়নি।

২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেদিন বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন তিন স্তরের নিরাপত্তা দেয়। গভীর রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করতে হয় নিরাপত্তা বাহিনীকে। তাঁর দাবি, ওই রাতে বঙ্গভবনেও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি আরও জানান, তাঁর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন হলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তিনি বলেন, রক্ত ঝরলেও বঙ্গভবন ছেড়ে যাবেন না—এমন মনোভাব নিয়েই পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন।

অপসারণের উদ্যোগের পেছনে গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপ ছিল বলে তাঁর দাবি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয় এবং একটি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়, দলগুলো চাইলে তবেই তিনি অপসারিত হতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের জোটসঙ্গীরা অসাংবিধানিক পথে অপসারণে সমর্থন না দেওয়ায় উদ্যোগটি ব্যর্থ হয় বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও এক পর্যায়ে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে এনে তাঁকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিচারপতি এতে রাজি হননি বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেড় বছরে স্বাভাবিক সমন্বয় ছিল না। তাঁর অভিযোগ, প্রধান উপদেষ্টা একাধিক বিদেশ সফর করলেও সংবিধান অনুযায়ী ফিরে এসে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেননি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পর্কেও তাঁকে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তাঁর দুইটি বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়। একটি ছিল কসোভো সফর, অন্যটি কাতারের আমিরের আমন্ত্রণে একটি সামিটে যোগ দেওয়ার বিষয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর নামে ‘রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা’র কারণ দেখিয়ে দুঃখ প্রকাশের খসড়া চিঠি পাঠানো হয়, যা তিনি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে ফেরত পাঠান।

এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল তাঁকে অপসারণের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত।

রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গভবনের প্রেস উইং প্রত্যাহার করে নেয়, ফলে কোনো প্রেস রিলিজ বা রাষ্ট্রীয় বাণী প্রচার সম্ভব হয়নি। জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্রে তাঁর বাণীও প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

সবকিছুর পরও তিনি দাবি করেন, তিন বাহিনীর সমর্থন ও কিছু রাজনৈতিক দলের আশ্বাসে তিনি মনোবল ধরে রাখতে পেরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীও অসাংবিধানিক কোনো পদক্ষেপে সমর্থন দেবে না বলে স্পষ্ট করেছিল।

দেড় বছরের সেই সময়কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঝড়তুল্য অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে তাঁর দাবি, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যেই তিনি শেষ পর্যন্ত অবস্থানে অটল থেকেছেন।

এসএইচ 


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


‘রক্ত ঝরলেও পদ ছাড়িনি’-বঙ্গভবনে যা ঘটেছে তা নিয়ে চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেড় বছর ধরে নানা চাপ, ঘেরাও, অপসারণের উদ্যোগ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বঙ্গভবনে সময় কেটেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, অসাংবিধানিক উপায়ে তাঁকে সরানোর একাধিক উদ্যোগ হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়।

গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নেন কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে তাঁকে কেন্দ্র করে নানা চক্রান্ত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির চেষ্টা এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের অসংখ্য ছক ছিল, তবে তিনি সিদ্ধান্তে অবিচল থাকায় সেগুলো সফল হয়নি।

২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেদিন বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন তিন স্তরের নিরাপত্তা দেয়। গভীর রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করতে হয় নিরাপত্তা বাহিনীকে। তাঁর দাবি, ওই রাতে বঙ্গভবনেও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি আরও জানান, তাঁর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন হলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তিনি বলেন, রক্ত ঝরলেও বঙ্গভবন ছেড়ে যাবেন না—এমন মনোভাব নিয়েই পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন।

অপসারণের উদ্যোগের পেছনে গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপ ছিল বলে তাঁর দাবি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয় এবং একটি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়, দলগুলো চাইলে তবেই তিনি অপসারিত হতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের জোটসঙ্গীরা অসাংবিধানিক পথে অপসারণে সমর্থন না দেওয়ায় উদ্যোগটি ব্যর্থ হয় বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও এক পর্যায়ে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে এনে তাঁকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিচারপতি এতে রাজি হননি বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেড় বছরে স্বাভাবিক সমন্বয় ছিল না। তাঁর অভিযোগ, প্রধান উপদেষ্টা একাধিক বিদেশ সফর করলেও সংবিধান অনুযায়ী ফিরে এসে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেননি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পর্কেও তাঁকে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তাঁর দুইটি বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়। একটি ছিল কসোভো সফর, অন্যটি কাতারের আমিরের আমন্ত্রণে একটি সামিটে যোগ দেওয়ার বিষয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর নামে ‘রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা’র কারণ দেখিয়ে দুঃখ প্রকাশের খসড়া চিঠি পাঠানো হয়, যা তিনি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে ফেরত পাঠান।

এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল তাঁকে অপসারণের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত।

রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গভবনের প্রেস উইং প্রত্যাহার করে নেয়, ফলে কোনো প্রেস রিলিজ বা রাষ্ট্রীয় বাণী প্রচার সম্ভব হয়নি। জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্রে তাঁর বাণীও প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

সবকিছুর পরও তিনি দাবি করেন, তিন বাহিনীর সমর্থন ও কিছু রাজনৈতিক দলের আশ্বাসে তিনি মনোবল ধরে রাখতে পেরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীও অসাংবিধানিক কোনো পদক্ষেপে সমর্থন দেবে না বলে স্পষ্ট করেছিল।

দেড় বছরের সেই সময়কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঝড়তুল্য অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে তাঁর দাবি, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যেই তিনি শেষ পর্যন্ত অবস্থানে অটল থেকেছেন।

এসএইচ 



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত