ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

নদীর চরে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে দাকোপের ছিন্নমূল মানুষের জীবনযুদ্ধ



নদীর চরে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে দাকোপের ছিন্নমূল মানুষের জীবনযুদ্ধ
ছবিঃ দৈনিক দৃষ্টি

খুলনা প্রতিনিধি:


সুন্দরবন উপকূলে পশুর নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে এখন নদীর চরেই ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেন খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা বাজার সংলগ্ন এলাকার বেশ কিছু পরিবার। বাঁশের চালার ওপর পলিথিন আর গোলপাতার ঝুপড়ি ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন এই মানুষগুলো। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর জোয়ারের পানির সঙ্গে লড়াই করেই কাটছে তাদের প্রতিটি দিন ও রাত।

সরেজমিনে বানিশান্তা বাজার সংলগ্ন নদীর চরে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট অসংখ্য ঝুপড়ি ঘর। কোনোটি বাঁশের কঞ্চির বেড়া দিয়ে ঘেরা, কোনোটির ছাদ আবার কেবল জীর্ণ পলিথিনে ঢাকা। নদীর জোয়ারের পানি বাড়লে এই ঘরগুলোর নিচে পানি থৈ থৈ করে। অনেক সময় রান্নাঘর ভেসে যায়, ভিজে যায় পরনের কাপড় ও বিছানা। তবুও মাথা গোঁজার অন্য কোনো ঠাঁই না থাকায় এই মরণফাঁদেই থাকতে হচ্ছে তাদের। এই বসতিগুলোতে নেই কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা বা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট।

এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বসবাসকারী হাসিনা বেগম (৩৫) জানান, আগে ঘরবাড়ি সব ছিল, নদী সব গিলে খেয়েছে। এখন এই চরের ওপর বাঁশের খুঁটি গেড়ে পরিবার নিয়ে থাকি। রাতে জোয়ারের পানি বাড়লে ভয়ে ঘুমাতে পারি না, মনে হয় এই বুঝি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল।

স্বামী পরিত্যক্তা জামেলা বেগম (৪৫) আক্ষেপ করে বলেন, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না। জলোচ্ছ্বাসের সংকেত দিলে দৌড়ে সাইক্লোন শেল্টারে যাই, কিন্তু ফিরে এসে দেখি ঘরের চালা উড়ে গেছে বা আসবাবপত্র কাদায় মাখামাখি।

কুড়ি বছর ধরে চরে বসবাসরত মুজিবুর ফরাজি (৫২) জানান, ঝড়-বৃষ্টি আসলে সব কিছু রেখে উপরে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিই। থেমে গেলে ফিরে এসে দেখি সব ভাসছে, না হয় ঘরের চালা উড়ে গেছে। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই বেঁচে আছি।

এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, নদীর চরে বসবাসকারী এই ভূমিহীন ও ছিন্নমূল পরিবারগুলোর মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বর্তমানে পুনর্বাসনের তেমন কোনো প্রকল্প হাতে না থাকলেও আগামীতে সরকারিভাবে নতুন কোনো প্রকল্প বরাদ্দ আসলে এই পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পশুর নদীর উত্তাল ঢেউ আর নোনা বাতাসের মাঝে বাঁশের এই নড়বড়ে ঝুপড়িগুলোই এখন দাকোপের এই ছিন্নমূল পরিবারগুলোর শেষ সম্বল। প্রশাসনের এই দ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়নই পারে এই অদম্য মানুষদের একটি নিরাপদ ও নিশ্চিত ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


নদীর চরে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে দাকোপের ছিন্নমূল মানুষের জীবনযুদ্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

খুলনা প্রতিনিধি:


সুন্দরবন উপকূলে পশুর নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে এখন নদীর চরেই ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেন খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা বাজার সংলগ্ন এলাকার বেশ কিছু পরিবার। বাঁশের চালার ওপর পলিথিন আর গোলপাতার ঝুপড়ি ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন এই মানুষগুলো। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর জোয়ারের পানির সঙ্গে লড়াই করেই কাটছে তাদের প্রতিটি দিন ও রাত।

সরেজমিনে বানিশান্তা বাজার সংলগ্ন নদীর চরে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট অসংখ্য ঝুপড়ি ঘর। কোনোটি বাঁশের কঞ্চির বেড়া দিয়ে ঘেরা, কোনোটির ছাদ আবার কেবল জীর্ণ পলিথিনে ঢাকা। নদীর জোয়ারের পানি বাড়লে এই ঘরগুলোর নিচে পানি থৈ থৈ করে। অনেক সময় রান্নাঘর ভেসে যায়, ভিজে যায় পরনের কাপড় ও বিছানা। তবুও মাথা গোঁজার অন্য কোনো ঠাঁই না থাকায় এই মরণফাঁদেই থাকতে হচ্ছে তাদের। এই বসতিগুলোতে নেই কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা বা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট।

এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বসবাসকারী হাসিনা বেগম (৩৫) জানান, আগে ঘরবাড়ি সব ছিল, নদী সব গিলে খেয়েছে। এখন এই চরের ওপর বাঁশের খুঁটি গেড়ে পরিবার নিয়ে থাকি। রাতে জোয়ারের পানি বাড়লে ভয়ে ঘুমাতে পারি না, মনে হয় এই বুঝি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল।

স্বামী পরিত্যক্তা জামেলা বেগম (৪৫) আক্ষেপ করে বলেন, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না। জলোচ্ছ্বাসের সংকেত দিলে দৌড়ে সাইক্লোন শেল্টারে যাই, কিন্তু ফিরে এসে দেখি ঘরের চালা উড়ে গেছে বা আসবাবপত্র কাদায় মাখামাখি।

কুড়ি বছর ধরে চরে বসবাসরত মুজিবুর ফরাজি (৫২) জানান, ঝড়-বৃষ্টি আসলে সব কিছু রেখে উপরে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিই। থেমে গেলে ফিরে এসে দেখি সব ভাসছে, না হয় ঘরের চালা উড়ে গেছে। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই বেঁচে আছি।

এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, নদীর চরে বসবাসকারী এই ভূমিহীন ও ছিন্নমূল পরিবারগুলোর মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বর্তমানে পুনর্বাসনের তেমন কোনো প্রকল্প হাতে না থাকলেও আগামীতে সরকারিভাবে নতুন কোনো প্রকল্প বরাদ্দ আসলে এই পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পশুর নদীর উত্তাল ঢেউ আর নোনা বাতাসের মাঝে বাঁশের এই নড়বড়ে ঝুপড়িগুলোই এখন দাকোপের এই ছিন্নমূল পরিবারগুলোর শেষ সম্বল। প্রশাসনের এই দ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়নই পারে এই অদম্য মানুষদের একটি নিরাপদ ও নিশ্চিত ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত