বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, ফুটপাতের জনপ্রিয় খাবারগুলোতে বিপজ্জনক মাত্রার জীবাণু রয়েছে। এক প্লেট চটপটিতেই পাওয়া গেছে প্রায় ৭ কোটির বেশি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত মানুষের মলমূত্র থেকে ছড়ায়। পাশাপাশি সালমোনেলা ও ভিব্রিও জীবাণুর উপস্থিতিও মিলেছে, যা ডায়রিয়া ও পেটের জটিল রোগের জন্য দায়ী।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছয় ধরনের খাবার চটপটি, ছোলা-মুড়ি, স্যান্ডউইচ, আখের রস, অ্যালোভেরা শরবত ও সালাদ। রাজধানীর ৩৭টি স্থান থেকে ৪৫০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় সবগুলোতেই কোনো না কোনোভাবে জীবাণু দূষণ রয়েছে। এর আগের বিভিন্ন গবেষণাও একই চিত্র তুলে ধরেছে। আইসিডিডিআরবি-এর এক গবেষণায় ৫৫ শতাংশ রাস্তার খাবারে ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। আর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল দেখিয়েছে, এসব খাবারে টোটাল কলিফর্মস ও ই-কোলাইয়ের উচ্চমাত্রা বিদ্যমান।
সমস্যার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়া। বেশির ভাগ বিক্রেতার নেই কোনো প্রশিক্ষণ বা স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ধারণা। দূষিত পানি ব্যবহার, অপরিষ্কার বাসনপত্র, খোলা পরিবেশে খাবার রাখা এবং একই তেল বারবার ব্যবহার করার মতো বিষয়গুলো পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। অনেক ক্ষেত্রে বরফ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মাছ সংরক্ষণের অনুপযোগী বরফ, আর রঙিন খাবারে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শারীরিক বিকাশ ব্যাহত করা থেকে শুরু করে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অথচ আইন থাকলেও প্রয়োগ দুর্বল। নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তির অভাবে এ খাত প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সরকারি উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবতা হলো, সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনও বড় বাধা। পরীক্ষাগার সংকট, জনবল ঘাটতি এবং সমন্বয়ের অভাবে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে ফুটপাতের এই বিশাল খাদ্যব্যবস্থা এখনো অনেকটাই অরক্ষিত রয়ে গেছে, যা নগরবাসীর প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যেই নীরব ঝুঁকি ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, ফুটপাতের জনপ্রিয় খাবারগুলোতে বিপজ্জনক মাত্রার জীবাণু রয়েছে। এক প্লেট চটপটিতেই পাওয়া গেছে প্রায় ৭ কোটির বেশি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত মানুষের মলমূত্র থেকে ছড়ায়। পাশাপাশি সালমোনেলা ও ভিব্রিও জীবাণুর উপস্থিতিও মিলেছে, যা ডায়রিয়া ও পেটের জটিল রোগের জন্য দায়ী।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছয় ধরনের খাবার চটপটি, ছোলা-মুড়ি, স্যান্ডউইচ, আখের রস, অ্যালোভেরা শরবত ও সালাদ। রাজধানীর ৩৭টি স্থান থেকে ৪৫০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় সবগুলোতেই কোনো না কোনোভাবে জীবাণু দূষণ রয়েছে। এর আগের বিভিন্ন গবেষণাও একই চিত্র তুলে ধরেছে। আইসিডিডিআরবি-এর এক গবেষণায় ৫৫ শতাংশ রাস্তার খাবারে ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। আর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল দেখিয়েছে, এসব খাবারে টোটাল কলিফর্মস ও ই-কোলাইয়ের উচ্চমাত্রা বিদ্যমান।
সমস্যার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়া। বেশির ভাগ বিক্রেতার নেই কোনো প্রশিক্ষণ বা স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ধারণা। দূষিত পানি ব্যবহার, অপরিষ্কার বাসনপত্র, খোলা পরিবেশে খাবার রাখা এবং একই তেল বারবার ব্যবহার করার মতো বিষয়গুলো পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। অনেক ক্ষেত্রে বরফ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মাছ সংরক্ষণের অনুপযোগী বরফ, আর রঙিন খাবারে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শারীরিক বিকাশ ব্যাহত করা থেকে শুরু করে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অথচ আইন থাকলেও প্রয়োগ দুর্বল। নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তির অভাবে এ খাত প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সরকারি উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবতা হলো, সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনও বড় বাধা। পরীক্ষাগার সংকট, জনবল ঘাটতি এবং সমন্বয়ের অভাবে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে ফুটপাতের এই বিশাল খাদ্যব্যবস্থা এখনো অনেকটাই অরক্ষিত রয়ে গেছে, যা নগরবাসীর প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যেই নীরব ঝুঁকি ছড়িয়ে দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন