রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির প্রতিশব্দ হয়ে আছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, পরিকল্পনা এসেছে-গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণাও কম হয়নি। কিন্তু বাস্তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ খুব একটা কমেনি; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা নতুন রূপে ফিরে এসেছে।
শহরের সড়কে প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করেন বাসনির্ভর ব্যবস্থায়। কিন্তু এই খাতে এখনো শৃঙ্খলার অভাব প্রকট। একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের প্রতিযোগিতা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অনিয়মিত সার্ভিস-সব মিলিয়ে সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি এক অনিশ্চিত যাত্রা। নির্ধারিত সময়সূচি না থাকায় কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনও হয়ে পড়ে অনির্ভরযোগ্য।
গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রুট রেশনালাইজেশন, কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, ডিজিটাল টিকিটিং-এসব পরিকল্পনা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবায়ন সীমিত। ফলে আগের সমস্যাগুলোই থেকে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও মালিক-শ্রমিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বও এই খাতের সংস্কারকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কিছু উদ্যোগ নিলেও তা পুরো নগরজুড়ে কার্যকর হয়নি। কয়েকটি নির্দিষ্ট রুটে সীমিত আকারে পরিবর্তন এলেও সামগ্রিক চিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন অবকাঠামো যেমন ঢাকা মেট্রোরেল চালু হওয়ায় কিছু যাত্রীর ভোগান্তি কমেছে। তবে এটি এখনো শহরের একটি সীমিত অংশকে সেবা দিচ্ছে। একইভাবে বাস র্যাপিড ট্রানজিটসহ বড় প্রকল্পগুলো ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যার মূল জায়গা হলো সমন্বয়ের অভাব এবং কার্যকর তদারকির ঘাটতি। পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা নেই। পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় গণপরিবহন খাতের সংস্কার বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় যাত্রীসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া বিকল্প নেই। অন্যথায় সরকার বদলালেও রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা কমই থাকবে।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির প্রতিশব্দ হয়ে আছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, পরিকল্পনা এসেছে-গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণাও কম হয়নি। কিন্তু বাস্তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ খুব একটা কমেনি; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা নতুন রূপে ফিরে এসেছে।
শহরের সড়কে প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করেন বাসনির্ভর ব্যবস্থায়। কিন্তু এই খাতে এখনো শৃঙ্খলার অভাব প্রকট। একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের প্রতিযোগিতা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অনিয়মিত সার্ভিস-সব মিলিয়ে সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি এক অনিশ্চিত যাত্রা। নির্ধারিত সময়সূচি না থাকায় কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনও হয়ে পড়ে অনির্ভরযোগ্য।
গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রুট রেশনালাইজেশন, কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, ডিজিটাল টিকিটিং-এসব পরিকল্পনা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবায়ন সীমিত। ফলে আগের সমস্যাগুলোই থেকে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও মালিক-শ্রমিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বও এই খাতের সংস্কারকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কিছু উদ্যোগ নিলেও তা পুরো নগরজুড়ে কার্যকর হয়নি। কয়েকটি নির্দিষ্ট রুটে সীমিত আকারে পরিবর্তন এলেও সামগ্রিক চিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন অবকাঠামো যেমন ঢাকা মেট্রোরেল চালু হওয়ায় কিছু যাত্রীর ভোগান্তি কমেছে। তবে এটি এখনো শহরের একটি সীমিত অংশকে সেবা দিচ্ছে। একইভাবে বাস র্যাপিড ট্রানজিটসহ বড় প্রকল্পগুলো ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যার মূল জায়গা হলো সমন্বয়ের অভাব এবং কার্যকর তদারকির ঘাটতি। পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা নেই। পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় গণপরিবহন খাতের সংস্কার বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় যাত্রীসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া বিকল্প নেই। অন্যথায় সরকার বদলালেও রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা কমই থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন