ঢাকা    সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

সোনালি ধানে কালো ছায়া, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক


প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সোনালি ধানে কালো ছায়া, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক
সংগৃহীত ছবি

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলজুড়ে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ক্ষেত থেকে ধান তুলেই বাজারে গিয়ে তারা দেখছেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যও পাচ্ছেন না অধিকাংশ কৃষক।

নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, ক্ষেত থেকে সরাসরি বিক্রি করলে প্রতি মণ ধানের দাম মিলছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা। কিছুটা শুকনো ধান বিক্রি করলে তা ৯৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে।

অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয় এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৩ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৩১৮ টাকা। সে হিসাবে সরকার চলতি মৌসুমে ধান সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কৃষক সেই দামেও ধান বিক্রি করতে পারছেন না।

উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াই সংকটের অন্যতম কারণ। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, সেচ খরচ, সার-বীজ ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘায় খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ব্যয় হয়েছে। ফলে লাভ তো দূরের কথা, খরচই তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা।

হাওরাঞ্চলের বাস্তবতায় আরও একটি বড় চাপ তৈরি করেছে ঋণ। মৌসুমের শুরুতে ধার করে চাষাবাদ করায় ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই ঋণ শোধের তাগিদ আসে। এতে কম দাম হলেও দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এতে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দাম আরও কমছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় ধান মোকাম ভৈরবএ নতুন ধান ওঠার পর দামে বড় পতন দেখা গেছে। যেখানে এক মাস আগেও পুরোনো ধান বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি দরে, এখন নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকার আশপাশে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে পুরোনো ধানের মজুত, বেশি আমদানি এবং সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রম দেরিতে শুরু হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দামে ধান সংগ্রহ শুরু করলে বাজারে কিছুটা স্থিতি ফিরতে পারে। তবে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সময়মতো মূল্য ঘোষণা ও সরাসরি ধান কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

বারবার ভালো ফলন দিয়েও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক ধান চাষ থেকে সরে গিয়ে বিকল্প ফসলে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


সোনালি ধানে কালো ছায়া, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলজুড়ে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ক্ষেত থেকে ধান তুলেই বাজারে গিয়ে তারা দেখছেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যও পাচ্ছেন না অধিকাংশ কৃষক।

নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, ক্ষেত থেকে সরাসরি বিক্রি করলে প্রতি মণ ধানের দাম মিলছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা। কিছুটা শুকনো ধান বিক্রি করলে তা ৯৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে।

অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয় এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৩ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৩১৮ টাকা। সে হিসাবে সরকার চলতি মৌসুমে ধান সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কৃষক সেই দামেও ধান বিক্রি করতে পারছেন না।

উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াই সংকটের অন্যতম কারণ। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, সেচ খরচ, সার-বীজ ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘায় খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ব্যয় হয়েছে। ফলে লাভ তো দূরের কথা, খরচই তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা।

হাওরাঞ্চলের বাস্তবতায় আরও একটি বড় চাপ তৈরি করেছে ঋণ। মৌসুমের শুরুতে ধার করে চাষাবাদ করায় ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই ঋণ শোধের তাগিদ আসে। এতে কম দাম হলেও দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এতে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দাম আরও কমছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় ধান মোকাম ভৈরবএ নতুন ধান ওঠার পর দামে বড় পতন দেখা গেছে। যেখানে এক মাস আগেও পুরোনো ধান বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি দরে, এখন নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকার আশপাশে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে পুরোনো ধানের মজুত, বেশি আমদানি এবং সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রম দেরিতে শুরু হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দামে ধান সংগ্রহ শুরু করলে বাজারে কিছুটা স্থিতি ফিরতে পারে। তবে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সময়মতো মূল্য ঘোষণা ও সরাসরি ধান কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

বারবার ভালো ফলন দিয়েও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক ধান চাষ থেকে সরে গিয়ে বিকল্প ফসলে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত