বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ. কে. ফজলুল হক এক অনন্য উচ্চতার নাম। ‘শেরেবাংলা’ বা ‘বাংলার বাঘ’ উপাধিতে পরিচিত এই নেতা শুধু রাজনীতিবিদই ছিলেন না, ছিলেন বাঙালি জনগণের অধিকার আদায়ের এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর। তাঁর জীবনজুড়ে ছিল সংগ্রাম, নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণে অবিচল নিষ্ঠা।
১৮৭৩ সালের অক্টোবর মাসে বরিশাল অঞ্চলে জন্ম নেওয়া ফজলুল হক শৈশব থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখেন। প্রাথমিক শিক্ষায় আরবি, ফার্সি ও বাংলায় পারদর্শিতা অর্জনের পর তিনি বরিশাল জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে আইন পেশায় প্রবেশ করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইনচর্চা করেন এবং পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও মতবিরোধের কারণে তা ছেড়ে আবার আইন পেশায় ফিরে আসেন। তবে তাঁর প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে রাজনীতিতে, যেখানে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন।
রাজনীতিতে তাঁর উত্থান ঘটে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস—উভয় দলেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯১৬ সালের ঐতিহাসিক লক্ষ্ণৌ চুক্তি প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি ১৯২৭ সালে গঠন করেন কৃষক প্রজা পার্টি। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কৃষকবান্ধব নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা তাঁকে তৃণমূল মানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৪০ সালে লাহোর এ অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবই পরবর্তীতে উপমহাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেয়। তাঁর প্রভাবশালী বক্তৃতা ও নেতৃত্বগুণে তিনি ‘শেরেবাংলা’ উপাধিতে ভূষিত হন।
দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব বাংলার নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হলেও বাঙালির অধিকার, কৃষকের স্বার্থ এবং গণমানুষের রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। শেরেবাংলা ফজলুল হকের জীবন ও আদর্শ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ. কে. ফজলুল হক এক অনন্য উচ্চতার নাম। ‘শেরেবাংলা’ বা ‘বাংলার বাঘ’ উপাধিতে পরিচিত এই নেতা শুধু রাজনীতিবিদই ছিলেন না, ছিলেন বাঙালি জনগণের অধিকার আদায়ের এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর। তাঁর জীবনজুড়ে ছিল সংগ্রাম, নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণে অবিচল নিষ্ঠা।
১৮৭৩ সালের অক্টোবর মাসে বরিশাল অঞ্চলে জন্ম নেওয়া ফজলুল হক শৈশব থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখেন। প্রাথমিক শিক্ষায় আরবি, ফার্সি ও বাংলায় পারদর্শিতা অর্জনের পর তিনি বরিশাল জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে আইন পেশায় প্রবেশ করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইনচর্চা করেন এবং পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও মতবিরোধের কারণে তা ছেড়ে আবার আইন পেশায় ফিরে আসেন। তবে তাঁর প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে রাজনীতিতে, যেখানে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন।
রাজনীতিতে তাঁর উত্থান ঘটে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস—উভয় দলেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯১৬ সালের ঐতিহাসিক লক্ষ্ণৌ চুক্তি প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি ১৯২৭ সালে গঠন করেন কৃষক প্রজা পার্টি। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কৃষকবান্ধব নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা তাঁকে তৃণমূল মানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৪০ সালে লাহোর এ অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবই পরবর্তীতে উপমহাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেয়। তাঁর প্রভাবশালী বক্তৃতা ও নেতৃত্বগুণে তিনি ‘শেরেবাংলা’ উপাধিতে ভূষিত হন।
দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব বাংলার নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হলেও বাঙালির অধিকার, কৃষকের স্বার্থ এবং গণমানুষের রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। শেরেবাংলা ফজলুল হকের জীবন ও আদর্শ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন