ঢাকা    সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

মাঠে ধান, কিন্তু ডিজেল নেই-কৃষকের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া


প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মাঠে ধান, কিন্তু ডিজেল নেই-কৃষকের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া

দেশের বোরো ধান কাটার মৌসুম ঘিরে কৃষি খাতে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। সেচ থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহন-সবকিছুই ডিজেলনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি সংকট সরাসরি প্রভাব ফেলছে ফসল ঘরে তোলার প্রক্রিয়ায়।

কৃষক ও কৃষিযন্ত্র মালিকরা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় কম্বাইন হারভেস্টার, ট্রাক্টর ও থ্রেশারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলো অনেক জায়গায় মাঠেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে সময়মতো ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২১ লাখের বেশি ডিজেলচালিত কৃষিযন্ত্র রয়েছে। শুধু সেচ মৌসুমেই কয়েক লাখ টন ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ উঠছে মাঠ পর্যায়ে। এতে কৃষকেরা অনেক জায়গায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাওরাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল। সীমিত সময়ের মধ্যে ধান না তুলতে পারলে বন্যা ও অকাল বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে শুধু কৃষক নয়, দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তারা কৃষিতে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃষিযন্ত্র সচল রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন।

অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যন্ত্র মেরামত ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


মাঠে ধান, কিন্তু ডিজেল নেই-কৃষকের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের বোরো ধান কাটার মৌসুম ঘিরে কৃষি খাতে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। সেচ থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহন-সবকিছুই ডিজেলনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি সংকট সরাসরি প্রভাব ফেলছে ফসল ঘরে তোলার প্রক্রিয়ায়।

কৃষক ও কৃষিযন্ত্র মালিকরা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় কম্বাইন হারভেস্টার, ট্রাক্টর ও থ্রেশারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলো অনেক জায়গায় মাঠেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে সময়মতো ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২১ লাখের বেশি ডিজেলচালিত কৃষিযন্ত্র রয়েছে। শুধু সেচ মৌসুমেই কয়েক লাখ টন ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ উঠছে মাঠ পর্যায়ে। এতে কৃষকেরা অনেক জায়গায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাওরাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল। সীমিত সময়ের মধ্যে ধান না তুলতে পারলে বন্যা ও অকাল বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে শুধু কৃষক নয়, দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তারা কৃষিতে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃষিযন্ত্র সচল রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন।

অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যন্ত্র মেরামত ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত