নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো কাঁচা সড়ক দিয়েই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যাতায়াত করছেন। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই এসব বিদ্যালয়ের যাতায়াত পথ পরিণত হয় চরম দুর্ভোগে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ১৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো কাঁচা। সদর ইউনিয়নে ৮টি, মথুরাপুরে ৪টি, পাহাড়পুরে ৬টি, কোলাতে ৬টি, বিলাশবাড়ীতে ২টি, আধাইপুরে ৫টি এবং বালুভরায় ৩টি বিদ্যালয়ের যাতায়াত পথ কাঁচা রয়েছে। তবে মিঠাপুর ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলোতে পাকা সড়ক সুবিধা রয়েছে।
এসব কাঁচা সড়কের দৈর্ঘ্য কোথাও ৩০ মিটার, আবার কোথাও ২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
বদলগাছী সদর ইউনিয়নের গোল্লা মাধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০০ মিটার রাস্তা এখনো কাঁচা। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্ষাকালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় অভিভাবক যতীশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বর্ষায় ছোট শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। মায়েরা কোলে করে নিয়ে যায়। শিক্ষকরা দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে আসেন। বারবার বলেও কোনো সমাধান হয়নি।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানায়, বর্ষায় স্কুলে যেতে গিয়ে পড়ে তার হাত ভেঙে যায়। বই-খাতা নষ্ট হয়। পাকা রাস্তা হলে কষ্ট কমে যেত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আখতার বলেন, রাস্তার দুরবস্থার কারণে অনেক শিক্ষক আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে কামারবাড়ী আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি কাঁচা রাস্তার মধ্যে একটি ইট সোলিং করা হলেও তা দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে সেটিও চলাচলের অনুপযোগী। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লব ও কুশ জানায়, বর্ষায় বই-খাতা ভিজে যায়, স্কুলে যাওয়া খুব কষ্টকর।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ৩৪টি বিদ্যালয়ের কানেকশন রোড কাঁচা রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এসব কাঁচা সড়ক পাকা করা হবে।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো কাঁচা সড়ক দিয়েই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যাতায়াত করছেন। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই এসব বিদ্যালয়ের যাতায়াত পথ পরিণত হয় চরম দুর্ভোগে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ১৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো কাঁচা। সদর ইউনিয়নে ৮টি, মথুরাপুরে ৪টি, পাহাড়পুরে ৬টি, কোলাতে ৬টি, বিলাশবাড়ীতে ২টি, আধাইপুরে ৫টি এবং বালুভরায় ৩টি বিদ্যালয়ের যাতায়াত পথ কাঁচা রয়েছে। তবে মিঠাপুর ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলোতে পাকা সড়ক সুবিধা রয়েছে।
এসব কাঁচা সড়কের দৈর্ঘ্য কোথাও ৩০ মিটার, আবার কোথাও ২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
বদলগাছী সদর ইউনিয়নের গোল্লা মাধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০০ মিটার রাস্তা এখনো কাঁচা। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্ষাকালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় অভিভাবক যতীশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বর্ষায় ছোট শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। মায়েরা কোলে করে নিয়ে যায়। শিক্ষকরা দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে আসেন। বারবার বলেও কোনো সমাধান হয়নি।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানায়, বর্ষায় স্কুলে যেতে গিয়ে পড়ে তার হাত ভেঙে যায়। বই-খাতা নষ্ট হয়। পাকা রাস্তা হলে কষ্ট কমে যেত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আখতার বলেন, রাস্তার দুরবস্থার কারণে অনেক শিক্ষক আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে কামারবাড়ী আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি কাঁচা রাস্তার মধ্যে একটি ইট সোলিং করা হলেও তা দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে সেটিও চলাচলের অনুপযোগী। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লব ও কুশ জানায়, বর্ষায় বই-খাতা ভিজে যায়, স্কুলে যাওয়া খুব কষ্টকর।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ৩৪টি বিদ্যালয়ের কানেকশন রোড কাঁচা রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এসব কাঁচা সড়ক পাকা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন