মুরসালিন সরকার
এই ঈদে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক ভিন্ন ধারা লক্ষ করা গেছে—চিরচেনা বাণিজ্যিক ফর্মুলার বাইরে গিয়ে গল্পনির্ভর ও এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমার উত্থান। দর্শকের রুচির পরিবর্তন ও নির্মাতাদের সাহসী উদ্যোগ মিলিয়ে এবারের ঈদ যেন হয়ে উঠেছে কনটেন্ট-কেন্দ্রিক সিনেমার উৎসব।
ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচটি সিনেমার মধ্যে তিনটিই ছিল ভিন্ন ধারার গল্পে নির্মিত—‘দম’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবং ‘প্রেশার কুকার’। এই তিনটি সিনেমা প্রমাণ করেছে, শুধুমাত্র তারকানির্ভরতা নয়, শক্তিশালী গল্প ও নির্মাণশৈলী দিয়েও দর্শকের মন জয় করা সম্ভব।
‘দম’ সিনেমাটি মানবিক টানাপোড়েন ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে তুলে ধরেছে বাস্তবতার কাছাকাছি থেকে। অতিরঞ্জিত নাটকীয়তার বদলে এখানে দেখা গেছে সংযত অভিনয় ও গভীর আবেগ, যা দর্শকদের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
অন্যদিকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শকদের নিয়ে গেছে এক ভ্রমণময় গল্পে, যেখানে জীবনের নানা স্তর ও মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে ভিন্ন আঙ্গিকে। সিনেমাটির গল্প বলার ধরন এবং ভিজ্যুয়াল ভাষা ছিল প্রচলিত ধারার বাইরে, যা একে আলাদা করে তুলেছে।
‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি সামাজিক বাস্তবতা ও মধ্যবিত্ত জীবনের চাপকে কেন্দ্র করে নির্মিত। প্রতিদিনের জীবনের সংগ্রাম, স্বপ্ন আর সীমাবদ্ধতাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অনেক দর্শকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যায়।
এই তিনটি সিনেমার সাফল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—বাংলাদেশের দর্শক এখন শুধু বিনোদন নয়, ভাবনার খোরাকও খুঁজছেন। ফলে নির্মাতারাও ধীরে ধীরে ঝুঁকছেন নতুন গল্প ও নতুন উপস্থাপনার দিকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ঈদ শুধু বাণিজ্যিক সিনেমার দাপটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ভিন্ন ধারার গল্পও সমানভাবে জায়গা করে নিয়েছে দর্শকের মনে। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত, যা ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট তৈরিতে নির্মাতাদের উৎসাহিত করবে।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
মুরসালিন সরকার
এই ঈদে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক ভিন্ন ধারা লক্ষ করা গেছে—চিরচেনা বাণিজ্যিক ফর্মুলার বাইরে গিয়ে গল্পনির্ভর ও এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমার উত্থান। দর্শকের রুচির পরিবর্তন ও নির্মাতাদের সাহসী উদ্যোগ মিলিয়ে এবারের ঈদ যেন হয়ে উঠেছে কনটেন্ট-কেন্দ্রিক সিনেমার উৎসব।
ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচটি সিনেমার মধ্যে তিনটিই ছিল ভিন্ন ধারার গল্পে নির্মিত—‘দম’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবং ‘প্রেশার কুকার’। এই তিনটি সিনেমা প্রমাণ করেছে, শুধুমাত্র তারকানির্ভরতা নয়, শক্তিশালী গল্প ও নির্মাণশৈলী দিয়েও দর্শকের মন জয় করা সম্ভব।
‘দম’ সিনেমাটি মানবিক টানাপোড়েন ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে তুলে ধরেছে বাস্তবতার কাছাকাছি থেকে। অতিরঞ্জিত নাটকীয়তার বদলে এখানে দেখা গেছে সংযত অভিনয় ও গভীর আবেগ, যা দর্শকদের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
অন্যদিকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শকদের নিয়ে গেছে এক ভ্রমণময় গল্পে, যেখানে জীবনের নানা স্তর ও মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে ভিন্ন আঙ্গিকে। সিনেমাটির গল্প বলার ধরন এবং ভিজ্যুয়াল ভাষা ছিল প্রচলিত ধারার বাইরে, যা একে আলাদা করে তুলেছে।
‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি সামাজিক বাস্তবতা ও মধ্যবিত্ত জীবনের চাপকে কেন্দ্র করে নির্মিত। প্রতিদিনের জীবনের সংগ্রাম, স্বপ্ন আর সীমাবদ্ধতাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অনেক দর্শকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যায়।
এই তিনটি সিনেমার সাফল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—বাংলাদেশের দর্শক এখন শুধু বিনোদন নয়, ভাবনার খোরাকও খুঁজছেন। ফলে নির্মাতারাও ধীরে ধীরে ঝুঁকছেন নতুন গল্প ও নতুন উপস্থাপনার দিকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ঈদ শুধু বাণিজ্যিক সিনেমার দাপটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ভিন্ন ধারার গল্পও সমানভাবে জায়গা করে নিয়েছে দর্শকের মনে। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত, যা ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট তৈরিতে নির্মাতাদের উৎসাহিত করবে।

আপনার মতামত লিখুন